• মঙ্গলবার   ২৪ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৯ ১৪২৯

  • || ২২ শাওয়াল ১৪৪৩

বিএনপি পরাজয় বুঝতে পেরেছে: প্রধানমন্ত্রী

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮  

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে তাদের পরাজয় বুঝতে পেরেছে। ফলে তারা যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটাতে অথবা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালাতে পারে। তিনি দলের নেতাকর্মীদের বিএনপি ও এর সহাযোগীদের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। ভোটের দিনে কেউ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে এলে তাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে বলেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি তার ব্যক্তিগত বাসভবন সুধা সদন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পাঁচটি জেলায় নির্বাচনী সমাবেশে ভাষণদানকালে এসব কথা বলেন। তিনি টাঙ্গাইল, কুমিলল্গা, যশোর, পাবনা ও পঞ্চগড়ে নির্বাচনী সভায় যোগ দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি এরই মধ্যে পাঁচজন আওয়ামী লীগ নেতাকে হত্যা, ১৪১ জনকে আহত করেছে, আওয়ামী লীগের ১৭০টি নির্বাচনী কার্যালয় ও বসতবাড়িতে হামলা এবং ৫৪টি জায়গায় বোমা হামলা চালিয়েছে। পেট্রোল বোমা হামলাও চালানো হয়েছে। ৬৮টি স্থাপনা ও যানবাহনে তারা হামলা করেছে। পুলিশের ওপরও তারা হামলা করেছে।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটের এই চরিত্রটা বদলাতে হবে। কারণ এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের মানুষ কখনও পছন্দ করে না। কখনও পছন্দ করবে না। সারা বাংলাদেশের সবাইকে অত্যন্ত সজাগ থাকতে হবে। এ ধরনের সন্ত্রাসী কাজ যদি কেউ করতে আসে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার হাতে তাদের তুলে দিতে হবে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঠেকাতে আওয়ামী লীগের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকারও আহ্বান জানান দলের সভানেত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ শান্তি চায়। এই নির্বাচনটাও শান্তিপূর্ণ হবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে এবং সবার অংশগ্রহণে এ নির্বাচন অর্থবহ হবে।

স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির বিজয়ী হওয়ার আশা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি আশা করি, ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে বাংলার জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আবার একটি বিজয় নিয়ে আসবে। আমি বিশ্বাস করি, জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দেবে এবং আমরা আবার বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করব। আগামীতে ক্ষমতায় এলে ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া ও দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করার ঘোষণা দেন তিনি।

টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়াবাসীর দোয়া চাইলেন প্রধানমন্ত্রী : সমকালের গোপালগঞ্জ ও টুঙ্গিপাড়া প্রতিনিধি জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়াবাসীর কাছে দোয়া ও ভোট চেয়ে বলেছেন, আমরা বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলব। এ দেশের প্রতিটি মানুষ উন্নত সমৃদ্ধ জীবন পাবে। টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়াবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বজনহারা হয়ে এ দেশের মাটিতে যখন ফিরে আসি, তখন অপনারাই আমকে আশ্রয় দিয়েছেন। সাহস জুগিয়েছেন। আপনাদের মাঝেই ফিরে পেয়েছিলাম আমার হারানো মা-বাবা ও ভাইয়ের স্নেহ-ভালোবাসা। আপনারা লাখে লাখে ভাইবোন বারবার ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করেছেন। এ জন্য আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি আমার আসনে নির্বাচন করতে পারি না। আপনারা আমার আসনে নির্বাচন করেন। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে আমি মা-বোনসহ টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়ার সবার কাছে ভোট চাই। টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মগ্রহণ করেছেন। এ মাটিতেই তিনি ঘুমিয়ে আছেন। তিনি আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। এখন স্বাধীনতা ও দেশ রক্ষায় নৌকায় ভোট দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় টুঙ্গিপাড়া জিটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর চাচা শেখ কবির হোসেন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে এ জনসভায় গওহরডাঙ্গা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মুফতি মাওলানা রুহুল আমীন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ আবুল বশার খায়ের, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সাইফুল ইসলাম, জেলা পরিষদের সদস্য এমদাদুল হক বিশ্বাস, টুঙ্গিপাড়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ তোজাম্মেল হক টুটুল, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগ নেতা খালিদ হোসেন, মো. বাবুল হোসেন শেখ, শরিফুল হক বাদশা মুন্সি, পাটগাতী ইউপি চেয়ারম্যান মিলন মোল্লা, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মিজানুর রহমান, লাল বাহাদুর বিশ্বাস লালু, শৈলেন্দ্র নাথ মণ্ডল, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বি এম তৌফিকুল ইসলাম, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা যুব মহিলা লীগের সভানেত্রী সোফিদা আক্তার কাজী জোনাকী, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল হক বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসেন খোকন প্রমুখ। জনসভায় জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী নকুল কুমার বিশ্বাস সঙ্গীত পরিবেশন করে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করতে নৌকায় ভোট চান।

শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে : পাবনা অফিস জানায়, পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ মাঠে ভিডিও কনফারেন্সে দেশকে আরও সমৃদ্ধশালী করতে পাবনার পাঁচটি আসনেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ৩০ ডিসেম্বর শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে সরকার গঠন করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী গোলাম ফারুক প্রিন্স এমপি এবং পাবনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল রহিম লাল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন। এ ছাড়া পাবনা-১ আসনের অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু ও পাবনা-২ আসনের আহমেদ ফিরোজ কবিরকে পরিচয় করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। তবে পাবনা-৩ আসনের মকবুল হোসেন এবং পাবনা-৪ আসনের শামসুর রহমান শরীফ ডিলু অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত সব নেতাকর্মী ও জনতার কাছে নৌকার পক্ষে ভোট চান।

‘দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই’ : যশোর অফিস জানায়, যশোর টাউন হল ময়দানে জনসভায় যশোরবাসীর কাছে নৌকায় ভোট চাইলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, জাতির জনকের আকাঙ্ক্ষা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। যশোর একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা। পদ্মসেতুর সঙ্গে যশোর পর্যন্ত রেলসংযোগ করে দিচ্ছি। সেটা যশোর থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত যাবে। যশোর-খুলনা রাস্তা চারলেনে উন্নীত হয়েছে।

ভিডিও কনফারেন্সের শুরুতে যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার বক্তব্য রাখেন। এরপর উন্নয়ন নিয়ে একটি ভিডিও দেখানো হয়। শেষে যশোরের ছয়টি আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যশোর-১ আসনের শেখ আফিল উদ্দিন, যশোর-২-এর ডা. নাসির উদ্দিন, যশোর-৩-এর কাজী নাবিল আহমেদ, যশোর-৪-এর রণজিত কুমার রায়, যশোর-৫-এর স্বপন ভট্টাচার্য এবং যশোর-৬-এর প্রার্থী ইসমাত আরা সাদেক।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানতে চান নৌকায় ভোট পাব কি-না। এ সময় যশোরবাসী জোরালো কণ্ঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করেন ছয়টি আসনেই নৌকার প্রার্থীরা বিজয়ী হবে।

‘ধানের শীষ মানেই সন্ত্রাস’ : পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, ধানের শীষ মানেই সন্ত্রাস, ধানের শীষ মানেই জঙ্গিবাদ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জেলা শহরের পঞ্চগড় উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

তিনি আসন্ন সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মজাহারুল হক প্রধান এবং পঞ্চগড়-২ আসনের প্রার্থী নুরুল ইসলাম সুজনকে ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করার আহ্বান জানান। এ সময় নৌকা প্রতীকের দুই প্রার্থী ছাড়াও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমানুল্লাহ বাচ্চু, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার সাদাত সম্রাট প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন : কুমিল্লা থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কুমিল্লার টাউনহল মাঠে জনসভায় ভাষণ দেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিজয়ের মাসে স্বাধীনতার প্রতীক, উন্নয়নের প্রতীক নৌকায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখুন। এ সময় জেলার ১১ আসনের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা এবং বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লা সদর আসনের সাংসদ ও মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার শেখ হাসিনার সামনে কুমিল্লায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের বিজয়ের ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন। পরে একটি বিশাল মিছিল নগরীর প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।