• মঙ্গলবার   ১৬ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ৩১ ১৪২৯

  • || ১৮ মুহররম ১৪৪৪

ক্ষয়িষ্ণু বিএনপির চিত্রটা অপকর্মের দৃশ্যমান ফলাফল

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

নিউজ ডেস্ক : রাজনৈতিক ধ্বস ও নেতা-কর্মীদের দলত্যাগ কোনভাবেই থামাতে পারছে না বিএনপি। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক স্থবিরতা, রাজপথ কেন্দ্রিক রাজনীতির অনুপস্থিতি এবং দলীয় ভঙ্গুর অবস্থায় ভবিষ্যৎ ব্যর্থতা অনুধাবন করে বিএনপির নেতা-কর্মীরা প্রায় প্রতিদিনই দলত্যাগ করছেন অথবা ভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোতে যোগদান করছেন। এমন ঘটনা যেন বিএনপির রাজনীতির জন্য নিত্ত-নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিএনপির রাজনীতি ছাড়ার তালিকায় এবার নাম লেখালেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বগুড়া জেলা কমিটির উপদেষ্টা মোহাম্মদ শোকরানা। দল ত্যাগ করে পাকাপাকি বাস করার জন্য শনিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) কানাডা পাড়ি জমান তিনি। দলত্যাগের বিষয়ে তিনি আক্ষেপ নিয়ে বলেছেন, স্থবির রাজনীতির সঙ্গে আর চলতে চাই না। তাই বিএনপির রাজনীতি ছেড়ে কানাডা চলে যাচ্ছি।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন না পেয়ে ক্ষুব্ধ শোকরানা রাজনীতি ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। অথচ বগুড়ার এই সফল ব্যবসায়ী বিএনপির দুঃসময়ে পাশে ছিলেন। দলের ‘দুঃসময়ের কাণ্ডারি’ হিসেবে পরিচিত এই নেতা একাদশ সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-১ আসনে দলের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে চরম হতাশ ও ক্ষুব্ধ হন। সেই হতাশার অংশ থেকেই তিনি দলত্যাগ করে স্থায়ীভাবে কানাডায় বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শোকরানা‘র স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, দলের বিপদের দিনে কোটি কোটি টাকা চাঁদা দিয়েছেন তিনি। দলের সকল কর্মকাণ্ডে অংশ নিলেও প্রাপ্তির খাতা শূন্য বলা চলে। শেষ বয়সে এসেও মূল্যায়িত না হওয়ায় অনেকটা ক্ষোভ থেকেই দলত্যাগ করেছেন শোকরানা। বিএনপির যে রাজনৈতিক অধঃপতন ঘটেছে, তাতে এই দলের সঙ্গে থাকলে আর্থ-সামাজিক দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ছাড়া কোন বিকল্প নেই। মূলত হতাশা, বঞ্চনা এবং কোণঠাসা হয়ে থাকার কারণেই দল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন শোকরানা।

এদিকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের প্রতিদিন দল ত্যাগের বিষয়টিকে রাজনৈতিক ব্যর্থতা ও হতাশার অংশ হিসেবে দাবি করে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. আনোয়ার হোসেন বলেন, বিএনপির রাজনীতিতে সুবিধাবাদী নেতাদের সংখ্যাই বেশি। বাছ-বিচার ছাড়াই একটা সময়ে বিএনপিতে নেতা-কর্মীদের গ্রহণ করা হতো। দলটির বেশিরভাগ নেতাই দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কোটি কোটি টাকা আয় করেছেন। এখন সেই সুযোগ না থাকায় দলে দলে নেতা-কর্মীরা বিএনপি ছাড়ছেন এবং বিভিন্ন দলে যোগদান করছেন। এরা মূলত রাজনীতিবিদ নন, এরা সুবিধাবাদী এবং চতুর শ্রেণির মানুষ। এছাড়া বিগত এক দশকের বেশি ক্ষমতার বাহিরে থাকায় দলটির নেতা-কর্মীরা রাজনীতির নাম ব্যবহার করে অবৈধ সম্পদ অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়ায় দলত্যাগ করছেন। বিষয়টি অত্যন্ত হতাশাজনক। দুর্দশাগ্রস্ত বিএনপি এভাবে নেতা-কর্মী হারাতে থাকলে দলগত ভাবে অস্তিত্ব সংকটেও পড়তে পারে।

তিনি আরো বলেন, আজকে শুনলাম শোকরানার মতো বিত্তশালী নেতা দলের উপর অভিমান করে রাজনীতি ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। কতটা বঞ্চনার শিকার হলে নেতারা দলত্যাগ করতে পারে সেটি স্পষ্ট হয়েছে বিএনপির সাম্প্রতিক রাজনীতিতে। রাজনৈতিক দৈন দশার কবলে ক্ষয়িষ্ণু বিএনপির চিত্রটা অপকর্মের ফলাফলের দৃশ্যমান উদাহরণ হয়ে থাকবে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে।

বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ বলেন, একজন শোকরানার দলত্যাগে বিএনপির খুব বেশি ক্ষতি হবে না। এরা হলো দুধের মাছি। দলের বিপদে পালিয়ে যাচ্ছে। দলের নাম, ক্ষমতা ব্যবহার করে তার মতো অনেক বিএনপি নেতা আঙুল ফুলে কলা গাছ হয়েছেন। তাদের অন্তত অনুশোচনা বোধ থেকে হলেও আমৃত্যু বিএনপির সেবা করা উচিত। অথচ দুঃখজনক বিষয় হলো এদের মতো নেতারা এখন দল পাল্টাচ্ছেন সুবিধা আদায় করতে। এসব বর্ণচোরা নেতা-কর্মী যেকোন রাজনৈতিক দলের জন্য ক্ষতিকারক। মাসিক ক‘টা টাকা দলীয় চাঁদা দেয়ার ভয়ে যারা দলত্যাগ করে তাদেরকে কোনভাবেই রাজনীতিবিদ বলা যাবে না। বিএনপির রাজনীতিতে এমন সুবিধাবাদী ও স্বার্থপর নেতাদের কোনো প্রয়োজন নেই।