• মঙ্গলবার   ১৬ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ৩১ ১৪২৯

  • || ১৮ মুহররম ১৪৪৪

ঘরোয়া বৈঠক ও বিবৃতির জোরে কতদিন টিকতে পারবে বিএনপি?

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

নিউজ ডেস্ক: বিএনপি ক্ষমতার বাইরে রয়েছে এক যুগ হলো। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও চরমভাবে বিপর্যস্ত হয় এই দলটি। প্রতিপক্ষের সঙ্গে কৌশলে কিংবা মাঠে, কোনো ভাবেই পেরে উঠছে না তারা। কারণ, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ের দুর্নীতি চিত্র এখনো ভুলতে পারেনি সাধারণ জনগণ। যার কারণে স্বাভাবিকভাবেই দলটির নেতা–কর্মীদের অনেকেই হতাশ। বিশেষ করে যারা এক সময় ক্ষমতায় থাকা বিএনপি রাজনীতির থেকে সুবিধা আদায় করেছেন, তারা দলের বর্তমান ভঙ্গুর অবস্থায় নতুন দিনের দিশা খুঁজে পাচ্ছেন না।

এদিকে মনে রাখতে হবে, সরকারের ওপর জনসাধারণ অসন্তুষ্ট নয়। ফলে বিএনপি সরকারের জনপ্রিয়তার সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারেনি। মূলত বিএনপির নেতৃত্বের দুর্বলতা, সময়কে অনুধাবনের অক্ষমতা, একগুঁয়েমি, বিভিন্ন পর্যায়ে যোগ্য ও দক্ষ নেতা নির্বাচনে ব্যর্থতার কারণেই দীর্ঘ সময় ধরে দলটি ক্ষমতার বাইরে। বিএনপি সরকারে নেই, সংসদে নেই, মাঠেও নেই। প্রশ্ন হচ্ছে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির অবস্থান কোথায়? কেবল ঘরোয়া বৈঠক ও বিবৃতির জোরে বিএনপি এ অবস্থায় কি করতে পারবে?

তবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কিছু সূত্রের সঙ্গে আলোচনা করে বোঝা গেছে, আগামী কয়েক মাস জোটের দলগুলো সরকারবিরোধী আন্দোলনে যাবে না। বরং সরকার গঠনসহ পরবর্তী পরিস্থিতি দলগুলো আরো কয়েক দিন পর্যবেক্ষণ করবে। আন্দোলনের বদলে প্রচারণা বা গণসংযোগমূলক কর্মসূচি দেওয়ার চিন্তা করবে।

বিএনপির নেতারা বলছেন, আপাতত দল গুছিয়ে সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর দিকেই নজর দিচ্ছেন তারা। কিন্তু তারেক রহমানের সঙ্গে মির্জা ফখরুলের দ্বন্দ্ব। মির্জা ফখরুলের সঙ্গে রুহুল কবির রিজভীর দ্বন্দ্ব। রিজভীর সঙ্গে মওদুদ আহমেদের দ্বন্দ্বের কারণে বিএনপির তৃণমূল নেতারা দিশেহারা হয়েছে পড়েছেন। তৃণমূলের নেতারা আসলে বুঝতে পারছেন না, তারা কার নেতৃত্বে এগিয়ে যাবেন। যার কারণে বিএনপির সমন্বয়হীনতা আরো বেশি ঘনীভূত হচ্ছে।

বর্তমানে বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি চোখে তো পড়ে না। এছাড়া ভবনটির তৃতীয় তলায় বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল, ছাত্রদল ও কৃষক দলের অফিস তালাবন্ধ। এখানেও কোন নেতা-কর্মীকে দেখা যায় না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী ৫ বছর পর বিএনপি নামক কোনো দল বাংলাদেশে না থাকলে এ বিষয়ে আশ্চর্য হবার মতো কোনো কারণ তৈরি হবে না।