• সোমবার   ১৫ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ৩১ ১৪২৯

  • || ১৭ মুহররম ১৪৪৪

মৃত্যুর আগে ওসিয়ত করার গুরুত্ব

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

ওসিয়ত শব্দের অর্থ হচ্ছে, অঙ্গিকার নেয়া। আল কোরআনে এ অর্থে ওসিয়ত শব্দের ব্যবহার রয়েছে। যেমন: আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَوَصَّى بِهَا إِبْرَاهِيمُ بَنِيهِ وَيَعْقُوبُ يَا بَنِيَّ إِنَّ اللّهَ اصْطَفَى لَكُمُ الدِّينَ فَلاَ تَمُوتُنَّ إَلاَّ وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ

‘আর ইব্রাহিম (আ.) এরই ওসিয়ত করে গিয়েছেন এবং ইয়াকুব (আ.)-ও। তারা বলেছেন, হে আমাদের পুত্রগণ! নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য এই ধর্ম মনোনীত করেছেন। সুতরাং তোমরা এই অবস্থায়ই মৃত্যুবরণ করো যে, তোমরা মুসলিম।’ (সূরা বাকার-১৩২)
 
উল্লেখিত আয়াতে ওসিয়ত শব্দটি অঙ্গিকার নেয়ার অর্থে ব্যবহার হয়েছে। অর্থাৎ ইব্রাহিম ও ইয়াকুব (আ.) সন্তানদের থেকে অঙ্গিকার নিয়েছিলেন যে, তারা কখনো দীন থেকে বিচ্যুত হবে না এবং আজীবন দীনের উপর  চলে মৃত্যুবরণ করবে। শরয়ী পরিভাষায় ওসিয়ত বলা হয়, কাউকে বস্তু বা বস্তুর ফায়দার মালিক বানানো, অনুগ্রহের ভিত্তিতে।’ (কামুসূল ফিকহ, খন্ড-৫, পৃষ্ঠা-২৭২)

হিবা ও ওসিয়তের মাঝে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। হিবা হচ্ছে, ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় যা দিয়ে থাকে। ওসিয়ত হচ্ছে, ব্যক্তির এমন নির্দেশ যা মারা যাওয়ার পর বাস্তবায়ন করা হয়। আশরাফ আলী থানবী (রাহ.) বলেন, ‘মৃত্যুর পরে সম্পত্তি বা টাকা-পয়সা কাউকে দেয়া বা কোনো কাজে ব্যয় করা সম্পর্কে জীবিত থাকতে উপদেশ দিয়ে যাওয়াকে অসিয়ত বলে। যেমন: এরূপ বলা যে, আমার মৃত্যুর পরে এত মাল বা এত টাকা অমুক নেক কাজে বা অমুককে দান করো। এটাই ওসিয়ত। এরূপ কথা জীবিতকালে সুস্থাবস্থায় বলুক অথবা রুগ্নাবস্থায়; এবং সেই রুগ্নাবস্থায় তার মৃত্যু হোক বা সুস্থ হয়ে থাকুক, এ সবই ওসিয়ত।’ (বেহেশতি জেওর, পৃষ্ঠা-৫৪১)

আল কোরআনে ওসিয়তের বর্ণনা:
(এক) সূরা বাকারার আয়াত ১৮০-১৮২-তে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে,

كُتِبَ عَلَيْكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ إِن تَرَكَ خَيْرًا الْوَصِيَّةُ لِلْوَالِدَيْنِ وَالأقْرَبِينَ بِالْمَعْرُوفِ حَقًّا عَلَى الْمُتَّقِينَ

فَمَن بَدَّلَهُ بَعْدَمَا سَمِعَهُ فَإِنَّمَا إِثْمُهُ عَلَى الَّذِينَ يُبَدِّلُونَهُ إِنَّ اللّهَ سَمِيعٌ عَلِيمٌ

فَمَنْ خَافَ مِن مُّوصٍ جَنَفًا أَوْ إِثْمًا فَأَصْلَحَ بَيْنَهُمْ فَلاَ إِثْمَ عَلَيْهِ إِنَّ اللّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

‘যখন তোমাদের কারো নিকট মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন ধন-সম্পত্তি রেখে গেলে, মাতাপিতা ও আত্মীয়স্বজনের জন্য ওসিয়ত করা তোমাদের উপর ফরজ। (এ বিধান) আবশ্যকীয় ফরহেজগারদের জন্য। অতঃপর কেউ ওসিয়ত শুনার পর ওসিয়ত পরিবর্তন করে ফেললে, পরিবর্তনের গুনাহ তাদের উপর বর্তাবে যারা পরিবর্তন করে। নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা। এবং যে ব্যক্তি অসিয়তকারীর পক্ষ থেকে পক্ষপাতিত্ব বা গোনাহের আশঙ্কা করে, এবং সে তাদের পরস্পর মীমাংসা করিয়ে দেয়, তবে তার কোনো গুনাহ নেই। নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা বড় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সূরা: বাকারা, আয়াত: ১৮০-১৮২)

উল্লেখিত আয়াতে ওসিয়তকে ফরজ সাব্যস্ত করা হয়েছে। কিন্তু এই বিধান এখন বহাল নেই। রহিত করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে মূফতি শফি (রাহ.) এর আলোচনা এখানে তুলে ধরা হচ্ছে। তিনি লেখেন ‘অধিকাংশ সাহাবা ও তাবেয়ীগণের মত হচ্ছে, ওয়ারিশ সংক্রান্ত আয়াত দ্বারা, এই আয়াতের ফরজ হুকুমকে রহিত করা হয়েছে। এখন ওসিয়ত ফরজ নয়। এর সমর্থনে ইবনে আব্বাস (রা.) এর সূত্রে হাদীস বর্ণিত হয়েছে। প্রখ্যাত হাদীসবেত্তা ইমাম হাকীম (রাহ.) উক্ত হাদীসকে সহীহ বলেছেন। ওয়ারিশ সংক্রান্ত আয়াত দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, সূরা নিসার ৭ নং আয়াত। সেখানে বলা হয়েছে, ওয়ারিশ হিসেবে পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের অংশ নির্ধারিত। তাই ওসিয়ত ফরজ হওয়ার বিধান এখন আর নেই।

ইবনে আব্বাস (রা.) এর অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, ওয়ারিশ সংক্রান্ত আয়াত দ্বারা ওই সকল লোকদের ব্যাপারে ওসিয়ত করা নিষেধ করা হয়েছে, ওয়ারিশ হিসেবে যাদের অংশ নির্ধারিত। তবে মৃত ব্যক্তির সম্পদে ওয়ারিশ হিসেবে যাদের কোনো অংশ নেই, তাদের বেলায় ওসিয়তের বিধান এখনো বহাল রয়েছে। যেমন সন্তানাদি জীবিত থাকা অবস্থায় মৃত পুত্রের সন্তানের জন্য ওসিয়ত, ছেলের বিধবা স্ত্রীর জন্য ওসিয়ত ইত্যাদি। উক্ত বিধান উম্মতের ঐক্যমত্তের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। তবে তাদের বেলায়ও ওসিয়ত ফরজ নয় মুস্তাহাব।’ (মাআরেফুল কুরআন, খন্ড-১, পৃষ্ঠা-৪৩৯)
        
(দুই)
 সূরা মায়েদার ১০৬-১০৮ নম্বর আয়াতে ওসিয়ত সংক্রান্ত আলোচনা এসেছে। ওসিয়তের বৈধতার ব্যাপারে বহু হাদীস ও উম্মতের উলামায়ে কেরামের ইজমা রয়েছে।

ওসিয়ত বৈধ হওয়ার হেকমত:
মানুষের মৃত্যুর পর, তার রেখে যাওয়া সম্পদ আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে নৈকট্যের ভিত্তিতে বণ্টন হয়; জরুরত বা প্রয়োজনের ভিত্তিতে নয়। অর্থাৎ নিকটবর্তী আত্মীয় থাকা অবস্থায় দূরবর্তী আত্মীয় কোনো কোনো ক্ষেত্রে একেবারেই সম্পদ পায় না বা কম পায়। অথচ কখনো এমন হতে পারে যে, নিকটবর্তী আত্মীয়ের সম্পদের তেমন প্রয়োজন নেই, কিন্তু দুরবর্তীর অনেক প্রয়োজন। এ জন্য ইসলাম সুযোগ রেখেছে যে, কোনো আত্মীয় অসহায় থাকলে তার জন্য সম্পদের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত ওসিয়ত করে যেন প্রয়োজন পূরণের ব্যবস্থা করে যেতে পারে।

ইসলামের বিধান হচ্ছে পিতা-মাতার আগে যদি সন্তান মারা যায় তাহলে মৃত সন্তানের সন্তানরা দাদা-দাদির সম্পত্তি থেকে নির্ধারিত কোনো অংশ পাবে না। অনেকে এটাকে ন্যায় বিচারের পরিপন্থি মনে করে। কিন্তু একটু চিন্তা করে না যে, ইসলাম নাতিকে নির্ধারিত অংশ না দিয়ে মূলত পুরো সম্পদের এক তৃতীয়াংশ দেয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। সুযোগকে কেউ কাজে না লাগালে দোষ কার? তাছাড়া কেউ ওসিয়ত করে গেলো না। তাই বলে কী তাকে কোনো সম্পদ দেয়া যাবে না? ইসলাম তো এক্ষেত্রেও সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন,

وَإِذَا حَضَرَ الْقِسْمَةَ أُوْلُواْ الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينُ فَارْزُقُوهُم مِّنْهُ وَقُولُواْ لَهُمْ قَوْلاً مَّعْرُوفًا

‘অর্থাৎ মিরাস সম্পত্তি বণ্টনের সময় আত্মীয়, ইয়াতিম-মিসকিন কেউ যদি এসে পড়ে তাহলে তাদেরও মিরাস থেকে কিছু প্রদান করো এবং তাদের সঙ্গে ভালো কথা বলো।’ (সূরা নিসা-৮)

আফসোস! এত উৎসাহ ও সুযোগ দেয়া সত্তেও সম্পদের মায়ায় আমরা তাদেরকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিচ্ছি আর সব দোষ দিচ্ছি ইসলামের ঘাড়ে!

ওসিয়তের হুকুম:
ওয়াজিব: যদি কারও জিম্মায় নামাজ, রোজা, জাকাত অথবা কসম ইত্যাদির কাফ্ফারা আদায় বাকি থাকে এবং ওই কাফ্ফারা আদায় করার মত সম্পদও তার থাকে তাহলে মৃত্যুর সময় ওসিয়ত করে যাওয়া ওয়াজিব। এরূপ যদি কারোর দেনা থেকে থাকে অথবা তার নিকট অন্য কারোর আমানত রাখা থাকে তাহলেও দেনা ও আমানত আদায় করে দেয়ার জন্য ওসিয়ত করে যাওয়া ওয়াজিব। এ সব বিষয় ওসিয়ত না করে গেলে গুনাহ হবে। এ প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে,

عن عبد الله ابن عمر رضي الله عنهما : أن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال ( ما حق امرئ مسلم له شيء يوصي فيه يبيت ليلتين إلا ووصيته مكتوبة عنده )

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) এর সূত্রে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, ‘ কোনো মুসলমানের নিকট ওসিয়তযোগ্য কোনো বস্তু থাকলে,  লিখিতভাবে ওসিয়ত সংরক্ষণ না করে দুই রাত অতিবাহিত করাও তার জন্য বৈধ হবে না। (সহীহ বোখারী- ২৫৮৭)

মুস্তাহাব: ইসলামি শরীয়ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে এই স্বাধীনতা দিয়েছে যে,  সে চাইলে নিজের মালের এক তৃতীয়াংশ কোন অসহায় দরিদ্র ব্যক্তি, মসজিদ, মাদ্রাসা, সমাজকল্যাণ ইত্যাদি খাতের জন্য ওসিয়ত করে  যেতে পারবে। এ রকম ওসিয়ত শরয়ী দৃষ্টিকোন থেকে মুস্তাহাব। প্রত্যেক মুসলমানের উচিত হচ্ছে, সদকায়ে জারিয়ার নিয়তে এমন ওসিয়ত করে যাওয়া।

মাকরূহ: নিজের সন্তানাদি যদি অসহায় দরিদ্র হয় তাহলে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য ওসিয়ত করা মাকরূহ। হজরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) রাসূল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলেন, হে রাসূলুল্লাহ! আমি কী আমার সমস্ত সম্পদের ওসিয়ত করে যাবো? রাসূল (সা.) বললেন, না। তিনি জিজ্ঞেস করলেন তাহলে অর্ধেকের ব্যাপারে ওসিয়ত করে যাই? তখনও রাসূল (সা.) বলেন, না। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন তাহলে এক তৃতীয়াংশের ব্যাপারে ওসিয়ত করি? রাসূল (সা.) বললেন, করা যায়, তবে এক তৃতীয়াংশও অনেক। এরপর রাসূল (সা.) বলেন, সন্তানদেরকে মালদার রেখে যাওয়া, অসহায় দরিদ্র অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে উত্তম। কারণ, দরিদ্র রেখে গেলে তারা মানুষের ধারে ধারে ঘুরবে আর ভিক্ষা চাইবে। (সহীহ বোখারী-২৫৯১)

সন্তানকে অসহায় দরিদ্র রেখে অন্যের জন্য ওসিয়ত করাকে রাসূল (সা.) অপছন্দ করতেন, যা উক্ত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তাই ফকিহগণ বলেন, সন্তানদের প্রয়োজন থাকা অবস্থায় অন্যের জন্য ওসিয়ত করা মাকরূহ।

না জায়েজ: না জায়েজ ওসিয়ত হচ্ছে, এক তৃতীয়াংশের বেশি সম্পত্তির ওসিয়ত করা। ওয়ারিশদের জন্য ওসিয়ত করা। গুনাহের কাজে ওসিয়ত করা। কোনো ওয়ারিশকে বিরত করার জন্য, অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য ওসিয়ত করা। রাসূল (সা.) বলেন, কিছু মানুষ এমন থাকে যারা ষাট বছর পর্যন্ত আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগী করে। তারপর মৃত্যুর সময় আসে তখন তারা ওসিয়ত দ্বারা ওয়ারিশদের ক্ষতি করে। আর এ কারণে তাদের উপর জাহান্নাম অবধারিত হয়ে যায়। (তিরমিজী-২১১৭)

ওসিয়ত সংক্রান্ত কিছু বিধিবিধান:
(এক) কেউ ওসিয়ত করে গেলো, আমার জানাযার নামাজ অমুক ব্যক্তি দ্বারা পড়াবে। আর অমুক শহরে অমুকের কবরের পাশে আমাকে দাফন করবে। অমুক কাপড় দ্বারা আমাকে কাফন দিবে ইত্যাদি। এ রকম ওসিয়ত পূর্ণ করা জরুরি নয়।

(দুই) কেউ কোনো ওসিয়ত করার পর যদি তা প্রত্যাহার করে, অর্থাৎ বলে যে, আমি যে ওসিয়ত করেছি, এখন তা পূর্ণ করার আমার ইচ্ছা নেই, তোমরা আমার ওসিয়ত কার্যকর করবে না তাহলে ওসিয়ত বাতিল হয়ে যাবে। (উভয় মাসয়ালার সূত্র হচ্ছে বেহেশতি জেওর, পৃষ্ঠা-৫৪২-৫৪৩)

(তিন) স্বাভাবিক অবস্থায় পিতা-মাতা সন্তানাদিকে যা দেয়, তা হিবার অন্তর্ভূক্ত। তাই পিতা-মাতা সুস্থ অবস্থায় চাইলে সন্তানাদির শিক্ষা-দীক্ষা, বাড়ি নির্মাণ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে কাউকে কম, কাউকে বেশি দিতে পারবে। তবে শর্ত হচ্ছে এর দ্বারা কাউকে সম্পত্তি থেকে বিরত করা বা কোনোরূপ ক্ষতি করা উদ্দেশ্য হতে পারবে না। (ফতোয়ায়ে উসমানী, খন্ড-৩, পৃষ্ঠা-৪৪৮)

(চার) ওসিয়ত পালন করার জন্য এক তৃতীয়াংশ মালের অধিক ব্যয় করা ওয়ারিশগণের উপর ওয়াজিব নয়। এক তৃতীয়াংশ দ্বারা যে পরিমাণ পূর্ণ হয়, তা পূর্ণ করবে। বাকিটা বাদ দিবে। তবে ওয়ারিশগণ খুশি হয়ে যদি নিজ নিজ অংশ না নেয় এবং বলে যে, ওসিয়ত পুরা কর, তাহলে এক তৃতীয়াংশের অধিক মাল ওসিয়তে ব্যয় করা যাবে। (বেহেশতি জেওর-৫৪২)

আমরা মৃত্যুর আগে সন্তান ও আত্মীয়-স্বজনের জাগতিক বিষয় নিয়ে চিন্তা করি। সে জন্য প্রয়োজন মোতাবেক কারো কারো জন্য ওসিয়ত করি। এটা শর্তসাপেক্ষে বৈধ এবং ক্ষেত্র বিশেষ ইসলাম এর জন্য উৎসাহও দিয়েছে। কিন্তু জাগতিক দিকের চেয়ে দীনি বিষয়কে আমাদের বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত।

পবিত্র কোরআনের বহু আয়াতে নবীগণের ওসিয়ত বর্ণিত হয়েছে। তাঁদের ওসিয়তের মূলে ছিলো দীনি বিষয়। মহান রাব্বুল আরামিন আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে বুঝার তাওফীক দান করুন। আল্লাহুম্মা আমীন।