• মঙ্গলবার   ২৪ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৯ ১৪২৯

  • || ২২ শাওয়াল ১৪৪৩

খালের ওপরেই ঝুলছে সড়ক!

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ২০ এপ্রিল ২০২২  

খালের ওপর ঝুলে গেছে সড়ক। গাছের সঙ্গে বেঁধে ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। মানিকগঞ্জ পৌরসভার ১৫ কিলোমিটার রাস্তায় ১৫ কোটি টাকার প্রকল্পে এমন রুগ্ণ দশা বেরিয়ে আসে মাত্র দুই মাসের মাথায়। এর মধ্যে দিয়ে দেশের পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনগুলোকে নিয়ে কাজ করা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড বা বিএমডিএফের প্রকল্প নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

এ নিয়ে পৌর মেয়র ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মাঝে দ্বন্দ্ব চলছে, করছেন পাল্টাপাল্টি দোষারোপ। যদিও ঠিকাদারদের দাবি, পৌরসভার একটি সিন্ডিকেটকে ‘খুশি না করায়’ রাস্তার মান নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন মেয়র।

ওপরে সড়ক ঠিকই আছে কিন্তু মাটি নেই নিচে। কোথাও আবার দেবে গেছে পুরো সড়কই। মানিকগঞ্জ পৌরসভার বেশ কয়েকটি এলাকার সড়কে ১৫ কোটি টাকার কাজের এমনই হাল হয়েছে কাজ শুরুর দুই মাসের মাথায়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ট্রাক দিয়ে বাইরে থেকে মাটি এনে সড়ক তৈরির কথা থাকলেও মাটি তোলা হয়েছে সড়কের পাশের খাল থেকে। যে কারণে সেই খালের ওপরই ঝুলে গেছে সড়ক। সেটিকে আবার গাছের সঙ্গে বেঁধে ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টাও হয়েছে।

এলাকাবাসীরা বলেন, বাইরের থেকে মাটি এনে এখানে ফেললে তাহলে রাস্তাটা ভাঙত না। এখানে আসলে ইঞ্জিনিয়ারদের কোনো দোষ নেই, ঠিকাদারদের দোষ আছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্মাণের দুই মাসের মাথায় সড়কগুলোতে আবারও সংস্কারকাজ করেন ঠিকাদাররা। কিন্ত কাজের কাজ তেমন কিছুই হয়নি।

ওই এলাকার একজন বলেন, এই আধাস্লাব রাস্তাটা দ্বিতীয়বার করছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগের কারণে ঠিকাদারদের বিল দেয়নি পৌরসভা। জামানতের টাকাও আটকে দেন পৌর মেয়র।

মানিকগঞ্জ পৌর মেয়র রমজান আলী বলেন, রাস্তা না সারলে আমি একটা টাকাও দেব না, মূল কথা আমার এইটুকুই।

তবে এসব অস্বীকার করে ঠিকাদাররা অভিযোগের আঙুল তুলছেন মেয়রের দিকে।

মা ইঞ্জিনিয়ার ও হোসেন কনস্ট্রাকশনের মুখপাত্র শহীদুল ইসলাম বলেন, তাদের পরিকল্পিতভাবে পৌরসভার একটা গ্যাং আছে, তাদের একটা সিন্ডিকেট আছে। এই সিন্ডিকেটদের বিল আমাদের বিল থেকে দিয়েছে।

সড়কের এমন দশা দেখলে মনে হবে সড়ক তো নয় যেন সুড়ঙ্গ। যদিও সড়কের নিম্নমানের এই অভিযোগটি ছাড়াও আরও একটি অভিযোগ রয়েছে, সেটি হলো ঠিকাদাররা বলছেন, পৌরসভার একটি সিন্ডিকেটের সঙ্গে অদৃশ্য সমঝোতা না হওয়ার কারণে ক্ষুব্ধ মেয়র সড়কের নিম্নমানের এই বিষয়টি সামনে আনেন যদিও এমন অভিযোগ মানতে নারাজ মেয়র।

মেয়র বলেন, কে বলল এইটা? আপনি যদি কথা না বলেন তাহলে আর ইনকোয়ারি করার দরকার নেই।

বিএমডিএফ নিয়ে কথা বলতে চাননি স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব ও বিএমডিএফের চেয়ারম্যান। তবে ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলছেন, অনিয়মের অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবেন তারা।

বিএমডিএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল মন্সুর মো. ফয়েজ উল্লাহ বলেন, অভিযোগটা যদি আমাদের কাছে ওভাবে আসে, আমরা অবশ্যই নিজেরা এটা তদন্ত করব। একই সঙ্গে আমাদের মন্ত্রণালয়কে আমরা অবশ্যই অবহিত করব। নগর উন্নয়নকে সহায়তা করতে ২০ বছর ধরে কাজ করছে বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড বা বিএমডিএফ। এর উন্নয়ন সহায়তা স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যয়ের আহ্বান নাগরিকদের।