• বুধবার   ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৯ ১৪২৯

  • || ১০ রজব ১৪৪৪

দক্ষিণ কোরিয়াকে বিধ্বস্ত করে কোয়ার্টারে ব্রাজিল

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ৬ ডিসেম্বর ২০২২  

ব্রাজিল তখন কোন বিশ্বকাপই জিতেনি। ঘটনা যে ১৯৫৪ বিশ্বকাপের। সেবারই প্রথম প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষের (মেক্সিকো) জালে চার গোল দিয়েছিল তারা। ৬৮ বছর পরে ওই কীর্তি দেখাল সেলেসাওরা। ততোদিনে পাঁচটি বিশ্বকাপ জেতা হয়ে গেছে। হেক্সার মিশনও দুই দশকে পা রেখেছে। প্রথমার্ধে ওই আগুনে শুরুর পর দ্বিতীয়ার্ধে গোল পায়নি তিতের দল। বরং দক্ষিণ কোরিয়া হারের ব্যবধান ৪-১ করে মাঠ ছেড়েছে।

সোমবার স্টেডিয়াম ৯৭৪' এ অনুষ্ঠিত ম্যাচে নেইমারের ফেরাই ছিল ব্রাজিলের জন্য বড় স্বস্তির। তিনি পুরো ফিট কিনা, সেরাটা দিতে পারেন কিনা দেখার ছিল সেটাই। কিন্তু ম্যাচের শুরুতেই গোল উৎসব শুরু করে নেইমারের ওপর থেকে চোখ সরে যায়। 

ম্যাচের ৭ মিনিটে গোল করে সেলেসাওরা। হেক্সার মিশনে দলকে কোয়ার্টারে তুলতে প্রথম গোল করেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। রাফিনহার বাড়ানো বল নেইমার 'নো টাচ' করে ছেড়ে দিলে পেনাল্টির মতো বল পাতিয়ে নিঁখুত শটে গোল করেন রিয়াল মাদ্রিদে খেলা ভিনি। বিশ্বকাপে গোলের খাতা খোলেন তিনি।

ছয় মিনিট পরেই দ্বিতীয় গোল করে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। এবার গোল করেন ইনজুরি থেকে ফেরা নেইমার জুনিয়র। রিচার্লিসনের আদায় করা পেনাল্টি নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। তবে নেইমারের ট্রেড মার্ক স্লো মোশন দৌড়ে নেওয়া শট ও গোল ছিল দেখার মতো। এরপর ২৯ মিনিটে গোল করেন ব্রাজিলের স্ট্রাইকার রিচার্লিসন। লিড বাড়িয়ে নেন ৩-০। তার সার্বিয়ার বিপক্ষে গোলটি যদি আসরের স্বতন্ত্র সেরা গোল হয়। তবে কোরিয়ার বিপক্ষে গোলটি দলীয় অন্যতম সেরা।

প্রথমার্ধের ৩৬ মিনিটে দলকে ৪-০ গোলে এগিয়ে নেন মিডফিল্ডার লুকাস পাকুয়েতা। দারুণ এক কাউন্টার অ্যাটাক তোলেন ভিনিসিয়াস। গতির সঙ্গে ঢুকে পড়েন দক্ষিণ কোরিয়ার বক্সে। এরপর গোল মুখে নেইমাররা থাকলেও একটু দূরে থাকা পাকুয়েতা বল পাঠান। তিনি গোল করতে ভুল করেননি। 

প্রথমার্ধে চারটি গোল করলেও গোল হওয়ার মতো তিনটি সুযোগ হারায় সেলেসাওরা। এর মধ্যে রিচার্লিসনের গতির সঙ্গে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষককে ফাঁকায়  পেয়েও গোল মিস করা, পাকুয়েতার ফ্লিক করে গোল দিতে যাওয়া এবং রাফিনহার মিস চোখে লাগার মতো। রাফিনহা গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করার সুযোগ হারিয়েছেন। এই ম্যাচেও সবচেয়ে বেশি গোলের সুযোগ হারানো খেলোয়াড় তিনি। 

ওই গোল মিসের সুযোগে ৭৬ মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়ার সং হো একটি গোল শোধ করেন। তার বক্সের বেশ বাহির থেকে জোরের ওপর নেওয়া শট ফেরানোর সুযোগ ছিল না অ্যালিসনের। প্রথমার্ধে চারটি গোল খাওয়ার পরও দক্ষিণ কোরিয়া সেভাবে আক্রমণ তুলেছে, অন্তত একটি গোল করার জন্য মরিয়া হয়ে খেলেছে তা প্রশংসার যোগ্য। ব্রাজিলের গোলরক্ষক অ্যালিসন এই ম্যাচে বেকার ছিলেন না। দুর্দান্ত তিনটি সেভও দিয়েছেন তিনি। ব্রাজিল সেমিফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে ৯ ডিসেম্বর রাশিয়া বিশ্বকাপের রানার্স আপ ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে।