• বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ৮ ১৪৩০

  • || ১০ শা'বান ১৪৪৫

স্কুল ছাত্র সাগরের হত্যা কারীদের ফাঁসির দাবিতে থানা ঘেরাও

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারি ২০২৩  

মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে স্কুল ছাত্র সাগর হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবিতে থানা ঘেরাও, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী। সোমবার দুপুরে উপজেলার শ্যামপুর গ্রাম থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে দৌলতপুর থানার সামনে জড়ো হন এলাকাবাসী।

এসময় তারা সাগর হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবিতে ৪টি গ্রামের প্রায় ৫শতাধিক লোক জড়ো হয়ে বিভিন্ন ধরনের শ্লোগান দিতে দিতে দৌলতপুর থানা ঘেরাও করেন। থানা কর্তৃপক্ষ তাদেরকে থানার ভিতরে প্রবেশ করতে না দিলে পরবর্তীতে উপজেলা চত্বরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে এসে এলার প্রায় ৫শতাধিক লোক স্কুল ছাত্র সাগর হত‍্যাকারীদের অভিলম্বে গ্রেফতার করে ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।

অভিযোগে জানাগেছে-উপজেলার ছোট শ‍্যামপুর গ্রামের মাসুদ আলীর ছেলে সাগর আলী(১৪) চরমাসুল মুন্সী বন্দে আলী উচ্চ বিদ‍্যালয়ে ৮ম শ্রেনী হতে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন। সাগর আলী গত ২১শে ডিসেম্বর বিকালে বড় ভাইয়ের অটোরিকশা নিয়ে ভাড়া বাওয়ার উদ‍্যেশে বাড়ি থেকে বেড় হয়ে যায়। বাড়িতে আর ফিরে না আসায় সে পরের দিন ২২শে ডিসেম্বর২০২২ইং তার পিতা দৌলতপুর থানায় জিডি করেন।থানার জিডি নং ৮৯৮। সাগর আলীকে পুলিশ ও আত্মীয় স্বজন ও তার পরিবার অনেক খুজাখুজির পর তাকে গত ৩০শে ডিসেম্বর উপজেলার খলসী ইউনিয়নের পারমাস্তুল গ্রামের নদীর পাড়ে বালুতে পুতে রাখা অবস্থায় থানা পুলিশ উদ্ধার করে।
উদ্ধারের পরের দিন সাগরের পিতা মাহমুদ আলী বাদী হয়ে গত ৩১শে ডিসেম্বর দৌলতপুর থানায় ৩জনকে আসামী করে একটি হত‍্যা মামলা দায়ের করেন।তারপর থেকে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে গত ১লা জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে ১নং আসামী ছোট শ‍্যামপুর গ্রামের শায়নালের স্ত্রী শেফালী বেগম ও ২নং আসামী ঘিওর উপজেলার বড়বিলা গ্রামের ইকবালের স্ত্রী রিমা বেগম। অপর একজন সন্দেহ জনক ভাবে ঘিওর উপজেলার তেরশ্রী গ্রামের মাইনুদ্দিনের ছেলে বজলুর রহমানকে গ্রেফতার করে কোর্টে প্রেরণ করে এবং আদালতের কাছে মামলার আয়ু এস আই রিপন মিয়া রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ২দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
মামলার পর থেকে অপর ৩নং এজার ভুক্ত আসামী ইকবাল পলাতক রয়েছে।

সমাবেশে নিহত সাগরের বাবা মাহমুদ আলী বলেন- আমার ছেলে সাগর একজন মেধাবী ছাত্র ছিল। তাকে পরিকল্পিত ভাবে হত‍্যা করা হয়েছে। দিন রাত থানায় ঘুরছি পুলিশ আমাদের কথার কোন গুরুত্ব দিচ্ছে না। আরও আসামি আছে তাদের নাম দেওয়ার কথা বললে পুলিশ নানান টাল বাহানা করে। আগেও আমি মানববন্ধন করতে চেয়েছিলাম পুলিশ করতে দেয়নি। আমি আমার ছেলে সাগর হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও ফাঁসি চাই।

সমাবেশে চকমিরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো: শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন-সাগর হত‍্যার পিছনে যারা জড়িত রয়েছে সুষ্ঠ তদন্তের মাধ‍্যমে তাদের আইনের আওতায় এনে গ্রেফতার করে শাস্তির দাবী জানান।তিনি আরো বলেন কোন নিরঅপরাধ লোককে যেন জড়িত করা না হয় সে বিষয়ে পুলিশের প্রতি অনুরোধ জানান।

এবিষয়ে মামলার আয়ু বলেন সাগর আলীর লাশ উদ্ধার হওয়ার পর তার পিতা মাহমুদ আলী ৩জনকে আসামি করে হত‍্যা মামলা করেন।তার পর থেকে আসামি পলাতক থাকায় অনেক অনুসন্ধান করে গত ১লা জানুয়ারি ১নং আসামী শেফালী ও ২নং আসামি রিমা ও অপর একজন সন্দেহ জনক ভাবে বজলুর রহমান কে গ্রেফতার করে কোর্টে প্রেরণ করা হয়। অপর দিকে এজাহার ভুক্ত ৩নং আসামি ইকবাল হোসেন পলাতক রয়েছে।আমরা তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জাকারিয়া হোসেন বলেন সাগর নিখোঁজ হওয়ার পর থানায় জিডি করেন তার বাবা। পরবর্তীতে সাগরের লাশ পাওয়ার পর তিনজনকে আসামী করে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়। আসামীদেরকে গ্রেফতার করে রিমান্ড চেয়ে বিঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়। আদালত দুইদিনের রিমান্ড মন্জুর করেন। আমরা আসামীদের রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাবাদ করি। মামলাটি এখন তদন্তধীন আছে। এলাকাবাসীর বিক্ষোভ সমাবেশের কারন জানতে চাইলে তিনি জানান মামলার বাদী নতুন করে কয়েকজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বলেছে,তদন্ত ছাড়া নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না বলেছি এই কারনে বিক্ষোভ করতে পারে। আমরা তদন্ত করছি তদন্তে নতুন যাদের নামের কথা বলা হয়েছে তাদের হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমান পেলে অবশ্যই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।