• মঙ্গলবার ২৩ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ১০ ১৪৩১

  • || ১৩ শাওয়াল ১৪৪৫

আনন্দঘন পরিবেশে জাবির ইতিহাসের বৃহৎ সমাবর্তন

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩  

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দলীয় লেজুড়বৃত্তির ঊর্ধ্বে উঠে রাজনীতি করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের(জাবি) চ্যান্সেলর মো. আব্দুল হামিদ। শনিবার জাবির ৬ষ্ঠ সমাবর্তনে অংশ নেয়া গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশ্যে সভাপতির ভাষণে তিনি এ বক্তব্য তুলে ধরেন।

তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীগণ মুক্তবুদ্ধির চর্চা করেন। এখানে তাঁরা রাজনীতির অনুশীলন এবং সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণও করেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতি প্রত্যাশিত। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা রাজনীতিতে দলীয় লেজুড়বৃত্তি করেন। মনে রাখতে হবে শিক্ষাদান ও গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মূল এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

এছাড়া তিনি শিক্ষকদের দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির উর্ধ্বে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইদানিংকালে পত্রপত্রিকা খুললেই দেখা যায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বাণিজ্য ও টেন্ডারবাজির নেতিবাচক খবর। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উপাচার্য ও শিক্ষকদের সংশ্লিষ্টতার খবরই বড় করে ছাপা হয়ে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা অনেক উর্ধে। কিন্তু কতিপয় ব্যক্তির অপকর্ম ও অদক্ষতা গোটা শিক্ষক সমাজের মর্যাদাকে ম্লান করছে।

জাবির ষষ্ঠ সমাবর্তনে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী সমাবর্তন বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, বর্তমানই আমাদের ভবিষ্যতের গতিপথ সাজিয়ে দেয়। তোমার আজকে নেয়া সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব রয়েছে ভবিষ্যতের উপর, তোমার আজকের পরিশ্রম আগামীর সাফল্যের চাবিকাঠি। সৃষ্টিকর্তার সাহায্যও কিন্তু পরিশ্রমীদের জন্য। তোমরা কঠোর পরিশ্রমী হও। উপরে ওঠার সিড়ি তাদেরই কঠোর যারা পরিশ্রমী।

এছাড়াও সমাবর্তনে অন্যান্যদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো.নূরুল আলম, প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. রাশেদা আখতার, রেজিস্ট্রার (চুক্তিভিত্তিক) রহিমা কানিজ এবং সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনরা উপস্থিত ছিলেন।

এবারের সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারী মোট ১৫ হাজার ২১৯ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে তিনটি ক্যাটাগরিতে ১৬ জন শিক্ষার্থীকে স্বর্ণপদক দেন রাষ্ট্রপতি। স্নাতক ক্যাটাগরিতে ৮ জনকে ‘আসাদুল কবীর স্বর্ণপদক’ এবং স্নাতকোত্তর ক্যাটাগরিতে সাত জনকে ‘শরফুদ্দিন স্বর্ণপদক’ দেওয়া হয়। এছাড়া দর্শন বিভাগের সর্বোচ্চ ফলাফলধারী এক জনকে ‘মোফাসসিল উদ্দিন আহমেদ ট্রাস্টফান্ড স্বর্ণপদক’ দেওয়া হয়।