• রোববার ২৬ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১২ ১৪৩১

  • || ১৭ জ্বিলকদ ১৪৪৫

পাওনা টাকা চাওয়ায় সাভারে শিশু সন্তানকে হত্যা

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ১০ মার্চ ২০২৩  

সাভারের আশুলিয়ায় তানভীর (৮) নামের এক মাদরাসা ছাত্রকে অপহরণের পর খুন করার পর তার লাশ বস্তাবন্দি করে ফেলে দেওয়া হয় ময়লার ড্রেনে। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। বুধবার রাতে আশুলিয়া থানাধীন টংগাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারদের নাম-মো. আনোয়ার হোসেন (২০), মো. সাকিব হোসেন (২৬) ও মো. তামজিদ আহমেদ ওরফে রাফি (১৪) বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন র‌্যাব-৪ সিপিসি-২-এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট রাকিব মাহমুদ খান।

র‌্যাব জানায়, গত মঙ্গলবার রাতে আশুলিয়া থানাধীন টংগাবাড়ী এলাকা থেকে শিশু তানভীর নিখোঁজ হয়। পরদিন সকালে শিশুটির বাবার কাছে মুক্তিপণের জন্য ফোন আসে। তাকে বলা হয়, তার ছেলেকে আটকে রাখা হয়েছে এবং মুক্তিপণ দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। সঙ্গে সঙ্গেই আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিসহ র‌্যাব-৪-এ অভিযোগ দেন ভিকটিমের বাবা মো. সোলায়মান। এর মধ্যে বুধবার বিকালে আশুলিয়ার টংগাবাড়ী এলাকা থেকে নিখোঁজ তানভীরের বস্তাবন্দি লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে র‌্যাব-৪-এর একটি টিম সেখানে গিয়ে শিশুটির মরদেহ শনাক্ত করে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাসহ ৩ জনকে আটক করে।

র‌্যাব-৪ সিপিসি-২-এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট রাকিব মাহমুদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে ভিকটিমের পিতা মো. সোলায়মানের দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ ঘটনায় কিছু দিন আগে গ্রেফতার আনোয়ারের বাড়িতে গিয়ে তার পাওনা টাকা চায় সোলায়মান। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

এর জেরে আনোয়ার ক্ষিপ্ত হয়ে সোলায়মানের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য তার শিশুপুত্র তানভীরকে তার পিতার সদ্য কেনা জমি দেখানোর কথা বলে অপহরণ করে আশুলিয়ার শ্রীখন্ডিয়া এলাকার একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে তানভীরের গলা চেপে ধরে আনোয়ার এবং তাকে মাটিতে আছাড় দেয়। পরে ইট দিয়ে শিশুটির মাথায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশটি সেখানে ফেলে নিজ নিজ বাসায় ফিরে যায় হত্যাকারীরা। পরদিন ভোরে আসামিরা পুনরায় সেখানে গিয়ে লাশটি বস্তাবন্দি করে একটি সবজির গাড়িতে করে টংগাবাড়ী এলাকায় রাস্তার পাশের ময়লার ড্রেনে ফেলে দেয়।