• বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৫ ১৪৩১

  • || ১২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

দেশে স্বাস্থ্যসেবা দেবে সৌদি অর্থায়নের ৫টি ভাসমান হাসপাতাল

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ২১ মার্চ ২০২৩  

বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে সৌদি অর্থায়নের নির্মিত পাঁচটি ভাসমান হাসপাতাল হাজার হাজার রোগীকে স্বাস্থ্যসেবা দেবে। আশা করা যাচ্ছে, রমজানের পরইেএর মধ্যে দুটি হাসপাতাল চালু হবে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন নৌপথ পাড়ি দিয়ে গরিব মানুষদের চিকিৎসাসেবা দেবে ভাসমান এই হাসপাতালগুলো। প্রয়াত সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহর নামে নামকরণ করা হয়েছে হাসপাতালগুলো। এর অর্থায়ন করবে কিং আবদুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ প্রোগ্রামের (কেএএপি) অধীনে থাকা ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক।

২০১৭ সালে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মধ্যে সই হওয়া একটি চুক্তির অধীনে ভাসমান হাসপাতালগুলো প্রাথমিকভাবে পরিচালিত হবে ফেন্ডশিপ নামের একটি এনজিওর মাধ্যমে। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে ভাসমান হাসপাতাল চালিয়ে আসছে এই এনজিওটি। জানা গেছে, একটি নির্দিষ্ট সময় পরে হাসপাতালগুলোকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

জাহাজ নির্মাণ ও প্রথম পাঁচ বছরের অপারেশনে প্রায় দুই কোটি ডলার খরচ হবে। জাহাজগুলোর নাম হবে কিং আবদুল্লাহ ফ্রেন্ডশিপ হসপিটাল (১ থেকে ৫)। এরই মধ্যে দুটি জাহাজের নির্মাণকাজও শেষ হয়েছে। রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে নারায়ণগঞ্জ শিপইয়ার্ডে জাহাজগুলো তৈরি করা হয়েছে বলে জানানো হয়। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে রমজানের পরই এই দুটি চালু করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

ফেন্ডশিপ এনজিওটির নির্বাহী পরিচালক রুনা খান বলেন, ‘আমাদের লোকজন প্রস্তুত। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। সব কিছুই প্রস্তুত। আগামী জুন বা তার আগেই দুটি হাসপাতাল চালু হবে বলেও আশা করেন তিনি।’

প্রতিটি জাহাজে ক্রু থাকবেন ৩০ জন। তাদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি হবেন চিকিৎসক। বাকিরা জাহাজ চালানো ও প্রশাসনের দায়িত্বে থাকবেন। ডিউটি চলাকালীন সবাই জাহাজে তাদের আবাসিক কেবিনে থাকবেন। জাহাজগুলো চলবে পদ্মা নদী, উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা সুনামগঞ্জের মেঘনা নদী এবং হাতিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম ব-দ্বীপ। দেশটির এক-তৃতীয়াংশ এলাকা বেশির ভাগ সময় পানির নিচে থাকে। প্রায় সময়ই বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয় এবং দক্ষিণাঞ্চলে বন্যা দেখা যায়। এ সময় একমাত্র নৌপথেই যাত্রা সহজ হয়।