• বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৫ ১৪৩১

  • || ১২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

জাবি শিক্ষার্থীদের পকেটে টান, পুষ্টিতে ভাটা

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ২৬ মার্চ ২০২৩  

কয়েকমাস ধরে ক্রমবর্ধমান দ্রব্যমূলের ঊর্ধ্বগতির ফলে বিপাকে পড়েছেন দেশের সাধারণ মানুষ। একই সমস্যার মুখোমুখি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়ারাও। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রভাবে ব্যয় বাড়লেও তাদের আয় বাড়েনি কোনদিকেই।  

একইসঙ্গে প্রাণিজ আমিষের অন্যতম উৎস ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম বাড়তে থাকায় নতুন করে পুষ্টিহীনতার শঙ্কায় পড়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের শিক্ষার্থী, ক্যান্টিন মালিক, ডাইনিং কর্মচারী ও খাবার দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যাতায়াতসহ একজন শিক্ষার্থীর ব্যয় প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর আয়ের উৎস টিউশন হলেও সেখান থেকে প্রাপ্ত বেতন বৃদ্ধি না পাওয়ায় কেউ বাবা-মায়ের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন এবং যাদের সম্ভব হচ্ছে না তারা তিনবেলার জায়গায় দুবেলা খাচ্ছেন।  

এতে আরও দেখা যায়, ডাইনিংয়ে খাবারের দাম বাড়লেও কমে গেছে খাবারের মান ও পরিমাণ। ক্যান্টিন ও হলের বাইরের খাবার দোকানগুলোতে দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত। সবশেষ ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের মূল্যবৃদ্ধি আগুনে ঘি ঢালার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। এজন্য আগে প্রায়শই প্রাণিজ আমিষ হিসেবে ব্রয়লার মুরগি ও ডিম পাতে থাকলেও এখন তা হয়েছে দুরূহ।

বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের আবাসিক শিক্ষার্থী লুবাইনা ফাইয়াজ বিদিতা বলেন, আগে মুরগির মাংস বাটি প্রতি ছিল ২৫ টাকা আর এখন তা ৪০ টাকা। ডিম আগে ছিল ১৫ টাকা, এখন ২০ টাকা। আর মাছের দাম ২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিগত মাসগুলোতে খাবার খরচ বাবদ স্বাভাবিকভাবে ২ থেকে ৩ হাজার টাকাতেই হয়ে যেত, সেখানে এখন ৪ হাজার টাকারও বেশি খরচ হয়।  যাতায়াতসহ সব মিলিয়ে প্রায় ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রয়োজন হচ্ছে।  

শহীদ সালাম বরকত হলের আবাসিক শিক্ষার্থী রানা পারভেজ বলেন, আমি মাছ খেতে পারি না। আমিষ হিসেবে প্রতিদিন অন্তত এক বেলা মুরগির মাংস খেতাম। কিন্তু আগে ক্যান্টিনে মুরগির দাম ছিল বাটি প্রতি ৩০ টাকা। সেই দাম এখন বেড়ে ৪০ টাকা। আর দাম বাড়লেও মাংসের পিস আগের তুলনায় অনেক ছোট। ফলে নামমাত্র খাবার খেয়ে উঠতে হচ্ছে।

এদিকে, চলতি দামে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ থাকলেও হোটেল মালিকদের দাবি চলতি দামেই তাদের চলছে না। তাদের অভিযোগ, যেখানে সবকিছুর দাম শুধু বেড়েই চলেছে সেখানে প্রায় ২-৩ মাস আগে মূল্যতালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে। বিক্রিও তুলনামূলক কমেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই এসব খাবারের অন্যতম ক্রেতা হওয়ায় বাইরের ক্রেতা ছাড়া কারও কাছে যথাযথ লাভ রেখে বিক্রি করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন তারা।

এ ব্যাপারে পাবলিক হেল্থ এন্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের সভাপতি  ও ২১ নং হলের প্রভোস্ট তাজউদ্দীন শিকদার বলেন, মুরগির দামটা সাময়িকভাবে হয়তো বেড়েছে ঠিকই। তবুও পুরো বাংলাদেশ প্রাণিজ আমিষ পেতে এখনও এই ব্রয়লারের উপরে নির্ভরশীল। আর হলের ডাইনিং ক্যান্টিনগুলোতে কিন্তু এখনও খুব বেশি মূল্য বাড়েনি। এক-দুই টাকা হয়তো বেড়েছে সব মিলিয়ে।

তিনি বলেন, তবে সাময়িক এই মূল্যবৃদ্ধিতে কারো সমস্যা হলে মুরগির বিকল্প হিসেবে গরু বা খাসির মাংস নাগালের বাইরে থাকলেও মাছের উপর চাপ বাড়ানো যেতে পারে। রুই, তেলাপিয়া ও কার্প জাতীয় মাছগুলো থেকে আমরা কম দামে আমিষের চাহিদা মেটাতে পারি। এছাড়া প্রাণিজ আমিষের জন্য মাছ নিরাপদ ও ভালো একটি উৎস। তবে যারা মুরগিতে অভ্যস্ত তাদের কাছে মুরগির বিকল্প অন্য কিছু নেই। সেক্ষেত্রে আমাদের সম্মিলিতভাবে মুরগির দামটা যেন ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা যায় সেটা নিয়ে ভাবতে হবে।