• শনিবার ২০ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ৬ ১৪৩১

  • || ১০ শাওয়াল ১৪৪৫

জাবির নতুন হলের ক্যান্টিনে ‘গলাকাটা’ দাম, ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ৭ মে ২০২৩  

ক্যান্টিন চালু হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) নব-নির্মিত ২১ নম্বর হলের। তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির দোহাই দিয়ে খাবারের ‘গলাকাটা’ দাম রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তারা।

রোববার (৭ মে) হল ক্যান্টিনে গিয়ে দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য হল ক্যান্টিনের চেয়ে খাবারের বাড়তি দাম রাখা হচ্ছে। যেখানে মেন্যু প্রতি প্রায় ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দাম রাখতে দেখা গেছে।  

বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য হলের ক্যান্টিনে যেখানে মুরগি ৩৫ টাকা, মাছ ৩০ টাকা। সেখানে ২১ নম্বর হলে মাছ ৫০ টাকা এবং মুরগি খেতে হলে গুনতে হচ্ছে ৬০ টাকা। খিচুরি প্লেট প্রতি রাখা হচ্ছে ২০ টাকা, যেখানে অন্য হলে ১৫ টাকা। এছাড়া, বাইরের দোকানে ও অন্যান্য হলে প্রতি পিস ডিমের দাম ২০ টাকা, একই ডিম এই ক্যান্টিনে খেতে গুনতে হচ্ছে ৩০ টাকা।

হলে থাকা শিক্ষার্থীদের দাবি, খাবারের মান বৃদ্ধির অজুহাতে এভাবে দাম বাড়ানো হয়েছে। নতুন ক্যান্টিন চালু করে এমন বেশি দামে খাবার কেনা মধ্য ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের জন্য দুঃসাধ্য। শিক্ষার্থীরা খাবারের এমন দাম বৃদ্ধিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান তারা।

২১ নং হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মাহাদী ইসলাম বলেন, দীর্ঘ প্রায় চার মাস পর আমাদের হলের ক্যান্টিন চালু হয়েছে। এটা আমাদের জন্য আনন্দের। কিন্তু ক্যান্টিনে খাবারের যে দাম রাখা হচ্ছে, সেটা অন্য হলের ক্যান্টিন থেকে অনেক বেশি। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হয়ে এত দামে খাবার কিনে খাওয়া আমাদের জন্য কষ্টকর।

২১ নং হলের আরেক আবাসিক শিক্ষার্থী ইংরেজী বিভাগের মাহবুব আলম বলেন, প্রথম দিন সকালে খাবার খেয়ে দাম দিতে গিয়ে থমকে যাই। সবকিছুর দামই দ্বিগুণ রাখা হচ্ছে। ক্যাম্পাসের বটতলাতেও এত বেশি দাম রাখা হয় না। আমাদের বাড়তি টাকা দিয়ে খাবার কিনে খাওয়া সম্ভব না। এক্ষেত্রে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো উচিৎ।

এই প্রসঙ্গে ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষ জানান, দ্রব্যমূল্য বাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই সব খাবারের দাম বেড়েছে। কিন্তু আমরা ছাত্রদের কথা বিবেচনা করে খাবারের মান ও দাম নিয়ে সচেতন আছি। ক্যান্টিনটি নতুন চালু করা হয়েছে। তাই প্রথমে সমন্বয় করা যায়নি। তবে আমরা হল প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত শিক্ষার্থীদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে একটি নির্ধারিত মূল্যের খাবার চার্ট টানিয়ে দেব।

২১ নং হলের প্রভোস্ট তাজউদ্দিন শিকদার বলেন,  বিষয়টি নিয়ে আজ হলের ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বসব। আলোচনা করে সব খাবারের দাম ও মান সমন্বয় করব। আশা করি খাবারের দাম শিক্ষার্থীদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে।