• শনিবার ২৫ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪৩১

  • || ১৬ জ্বিলকদ ১৪৪৫

মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালের পোকামাকড় অতিষ্ঠ রোগীরা

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ২৩ মে ২০২৩  

মানিকগঞ্জে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে অসংখ্য তেলাপোকা ও বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে রোগীদের ছুটতে হচ্ছে এদিক-সেদিক। সোমবার (২৩ মে) সকালে হাসপাতালে অনুসন্ধান করে দেখা যায় নিরাপদ পানির সাইনবোর্ড থাকলেও সেখানে নেই কোনো পানির ফিল্টার। আরও খোঁজ নিয়ে দেখা গেলো হাসপাতালটিতে একটি ডিপ টিউবওয়েল থাকলেও পানির ফিল্টারগুলোর প্রায় সবগুলোই নষ্ট। 

এ বিষয়ে রোগীদের সাথে কথা বললে তারা জানায় কেউ নিজ বাড়ি থেকে পানি নিয়ে আসেন,আবার কেউ দোকান থেকে কিনে আনেন। কেউ ডিপটিউবওয়েল থেকে পানি আনতে গেলে পড়তে হয় ভোগান্তিতে।

তথ্য সংগ্রহকালে রোকেয়া বেগম নামের এক রোগীর স্বজন বলেন, হাসপাতালের পরিবেশ তেমন একটা ভালো না, বিশেষ করে তেলাপোকার যন্ত্রণায় আমরা খাবারও ভালোভাবে খাইতে পারি না। অনেক সময় দেখা যায় খাবারের ওপর এসে তেলাপোকা পড়ছে। তিনি আরও বলেন ২য় তলা থেকে ৮ তলা পর্যন্ত কোথাও খাবার পানির ব্যবস্থা নাই, সেই নিচ তলা যেয়ে পানি আনতে হয়। এসময় ৬ষ্ঠ তলার ১৭ নং বেডের রোগীর স্বজন হ্যাপি আক্তার বলেন, এইখানকার যে পরিবেশ প্রচুর পরিমাণে তেলাপোকা।

 এই পোকার জন্য আমরা ঠিকমত খাবার রাখতে পারি না। এমনকি খাবার পানির ব্যবস্থা এইখানে নাই। তবে নার্সদের ব্যবহার অনেক ভালো। তাদের ডাকলে আমরা সময় মতো পাশে পাই। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন বলেন বর্তমানে আমাদের পুরনো ভবনের পিছনে একটি ডিপ টিউবওয়েল আছে। যেখান থেকে রোগী, চিকিৎসক, হাসপাতালের কর্মচারী সবাই এখান থেকেই পানি নিয়ে যায়। কারণ সাপ্লায়ের যে পানি এটাতে অনেক আয়রন থাকে, সাধারণত এই পানি খাওয়ার উপযুক্ত থাকে না। আর এই পানিটা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে পৌঁছে দেবার কোনো ব্যবস্থা নেই। এবং আপনি যেটি বললেন ফিল্টার বা কলের কথা, এটি এককালে ছিল ওয়াটার পিউরিফিকেশনের জন্য। মানে সাপ্লাইয়ের যে পানি সেটি পিউরিফাই হয়ে যেনো রোগীরা পানি নিতে পারে। এরকম একটা এনজিও আমাদের সুবিধাটি দিয়েছিল কয়েকটি কর্নারে। 

এটার ক্ষেত্রে দেখা যায় আমরা কলগুলো লাগানোর কয়েকদিন পরই নষ্ট হয়ে যায়। কারণ রোগীরা এবং তাদের স্বজনরা ঠিকমতো ব্যবহার করে না। আর আয়রন আসার ফলে প্রথমে যে সাপ্লাই লাইনটা ছিল সেই লাইনটি সম্পূর্ণভাবে অকেজো হয়ে গেছে। এই ধরনের বাজেট সরকার দেয় না যে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ওয়াটার পিউরিফাইড পানির ব্যবস্থা করা যায়।