• মঙ্গলবার ২৩ এপ্রিল ২০২৪ ||

  • বৈশাখ ১০ ১৪৩১

  • || ১৩ শাওয়াল ১৪৪৫

শান্তিপূর্ণ ভোটে সন্তুষ্ট প্রার্থী ও ভোটাররা

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ২৫ মে ২০২৩  

কোনো ধরনের অপ্রীতিকর বা বিশৃঙ্খল ঘটনা ছাড়াই অনেকটা উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। সকাল থেকে বিভিন্ন কেন্দ্রে গিয়ে ভোটের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে দেখা গেছে প্রার্থীদের। 

ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে জানিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রার্থীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা নিজের জয়ের ব্যাপারেও আশাবাদ ব্যক্ত করছেন। শুধু প্রার্থীরাই নন, গাজীপুর সিটি নির্বাচনে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিয়ে ভোটাররাও খুশি। বিভিন্ন কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে কথা বলেও জানা গেছে, কোনো ধরনের বাধা-বিঘ্ন ছাড়াই ভোটাররা সকাল থেকে ভোটকেন্দ্রে আসছেন এবং ভোট দেওয়ার পর আনন্দঘন পরিবেশে বাড়ি ফিরছেন।

প্রায় ১২ লাখ ভোটারের জন্য ৪৮০টি কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটগ্রহণ শুরু হয় সকাল ৮টায়। চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। গাজীপুর সিটি করপোরেশনে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৪৭৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ পাঁচ লাখ ৯২ হাজার ৭৬২ জন, নারী পাঁচ লাখ ৮৬ হাজার ৬৯৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১৮ জন। এ সিটিতে ৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড আছে।

মোট ভোটকেন্দ্র ৪৮০টি, মোট ভোটকক্ষ ৩ হাজার ৪৯৭টি। এ নির্বাচনে মেয়র পদে আট জন, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৭৯ জন এবং সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৪৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদিন সকাল ৮টার আগেই সরেজমিনে গাজীপুর সফিউদ্দিন সরকারি কলেজ কেন্দ্রে গিয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী ভোটার উপস্থিতি চোখে পড়ে। ৬টি রুমে ৭টি বুথে ভোট নেওয়ার জন্য প্রস্তুত কর্মকর্তারা। ৮টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় ভোটগ্রহণ।

ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আলমগীর খান বলেন, ৬টা রুমে ৭টা বুথ। ২ হাজার ৪০৯ জন ভোটার। সকাল ৮টায় ভোট শুরু করতে পেরেছি। সব দল ও প্রার্থীর এজেন্ট আছে। তবে নৌকার এজেন্ট ৮ জন। টেবিল ঘড়ির ২ জন। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নেই। সুন্দর পরিবেশে ভোট হচ্ছে।

জয়দেবপুর মদিনাতুল আলিম মাদরাসায় দুই ভবনে ৪টি ভোটকেন্দ্র। সেখানে সকাল থেকেই বিপুল সংখ্যক ভোটারের চাপ দেখা যায়। বেশ ধীরগতিতে সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবেই ভোটগ্রহণ চলছে কেন্দ্রটির দায়িত্বপ্রাপ্তরা জানিয়েছেন।

ওই কেন্দ্র থেকে একটু এগোলেই জয়দেবপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গাজীপুর সরকারি মহিলা কলেজ ও জয়দেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। পাশাপাশি এ তিন কেন্দ্রেও সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ হতে দেখা গেছে। যথেষ্ট সংখ্যক ভোটার উপস্থিতি থাকলেও কোনো কেন্দ্রেই হুড়োহুড়ি বা বিশৃঙ্খলা দেখা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা মাজেদা খাতুন বলেন, আমি পৌনে ৮টায় কেন্দ্রে আসছি। ৮টায় ভোট শুরু হয়েছে। খুব সুন্দর ভোট হচ্ছে। আমরা খুব খুশি। চাইছি, শেষ পর্যন্ত যেন ভোটের এমন পরিবেশ বজায় থাকে। এদিন দুপুরে কাজী আজিম উদ্দিন কলেজ কেন্দ্র ঘুরেও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলতে দেখা গেছে। সেখানে রাহেলা নামের একজন ভোটকর্মী জানান, ভালোভাবে ভোট হচ্ছে। কোনো ঝামেলা নেই।

কানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েও ভোটের পরিবেশ ও ভোটার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সকালে এই কেন্দ্রে ভোট দেন স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুন ও তার ছেলে সাবেক সিটি মেয়র জাহাঙ্গীর আলম। তারা দুজনেই ভোটের পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশের পাশাপাশি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে ভোট হচ্ছে। এ পরিবেশ বজায় থাকলে আমার মা বিপুল ভোটে জয়ী হবেন। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হচ্ছে জানিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খানও নিজের জয়ের বিষয়ে আশাবাদী বলে জানিয়েছেন। এদিন সকাল পৌনে ৯টার দিকে ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডে টঙ্গীর আরিচপুর মসজিদ রোডের দারুস সালাম মাদরাসা কেন্দ্রে ভোট দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

প্রার্থীরা জানিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত ভোটের সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকলে ফলাফল যা-ই হোক, তারা মেনে নেবেন। আজমত উল্লা বলেন, আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। সবসময় জনগণের মতামতের প্রতি আমি শ্রদ্ধা দেখিয়ে আসছি। আজ জনগণ যাকে নির্বাচিত করবে, আমি সেটা অবশ্যই মেনে নেবো।

ভোট ভালো হলে যে কোনো ফল মেনে নেবেন, জানিয়েছেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী জায়েদা খাতুন।