• শনিবার ২৫ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪৩১

  • || ১৬ জ্বিলকদ ১৪৪৫

১৩ কিমি ধাওয়া করে মোটরসাইকেল উদ্ধার

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ৪ মে ২০২৪  

মোটরসাইকেলে করে কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন রতন আলী। হঠাৎ মোটরসাইকেল নিয়ে তিন ছিনতাইকারী এসে রতন আলীর পথরোধ করেন। এরপর তার সঙ্গে থাকা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যান তারা। ঘটনাটি ঘটার কিছুক্ষণ পরই মোটরসাইকেল নিয়ে আসছিলেন ইমরান হোসেন ও হৃদয় হোসেন।

রতন আলী তাদের থামিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনাটি জানান। বিষয়টি শুনে ইমরান ও হৃদয় পিছু নেন ছিনতাইকারীদের। প্রায় ১৩ কিলোমিটার ধাওয়া করে উদ্ধার করেন ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেলটি। গতকাল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ঢাকার ধামরাইয়ে এ ঘটনা ঘটে।

 মোটরসাইকেলটির মালিকের বাড়ি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া গ্রামে। তিনি গাজীপুরের কোনাবাড়িতে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। ইমরান হোসেন (২৫) ও হৃদয় হোসেন (২৩) তাদের বাড়িও ধামরাইয়ে। রতন আলী, ইমরান হোসেন ও হৃদয় জানান, শুক্রবার রাতে রতন আলী মোটরসাইকেল নিয়ে তার কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন।

তিনি রাত সোয়া ৮টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাইয়ের কেলিয়া ব্রিজের পূর্বপাশে পৌঁছলে এক মোটরসাইকেলে তিন আরোহী এসে তাকে পথরোধ করেন। এ সময় তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মোটরসাইকেল, নগদ টাকা ও একটি অ্যানড্রয়েড মোবাইল ফোন নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।

এরপর তারা মোটরসাইকেলটি নিয়ে ঢাকার দিকে চলে যান। এ সময় ওই মহাসড়ক দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন অপর এক মোটরসাইকেলের দুই আরোহী ইমরান ও হৃদয়। তখন রতন আলী ছিনতাইয়ের ঘটনাটি তাদের জানান।

পরে ইমরান ও হৃদয় হোসেন দ্রুত মোটরসাইকেল চালিয়ে ছিনতাইকারীদের পেছনে ধাওয়া করেন। এর মধ্যে তিন ছিনতাইকারীর দুইজন বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল নিয়ে সাভারের দিকে চলে যান। আর ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেল নিয়ে এক ছিনতাইকারী ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের নবীনগর থেকে বাইপাইলের দিকে চলে যান। কিন্তু হাল ছাড়েননি ইমরান ও হৃদয়। তারাও ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেলটির পেছনে ছোটেন।

একপর্যায়ে আশুলিয়ার পলাশবাড়ী এলাকায় মোটরসাইকেলটি রেখে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারী। প্রায় ১৩ কিলোমিটার ধাওয়া করে ইমরান ও হৃদয় উদ্ধার করতে সক্ষম হন মোটরসাইকেলটি। পরে তারা ধামরাই থানায় গিয়ে হস্তান্তর করেন মোটরসাইকেলটি। এ সময় সেখানে ছিলেন মোটরসাইকেলটির মালিক রতন আলী। এরপর ধামরাই থানার ওসি শেখ সিরাজুল ইসলাম রতনকে তার মোটরসাইকেলটি বুঝিয়ে দেন।ইমরান ও হৃদয়ের সাহসিকতার জন্য তাদের নগদ টাকা পুরস্কৃত করেন। 

রতন আলী বলেন, আমি সামান্য বেতনে পোশাক কারখানায় চাকরি করি। শখ করে মোটরসাইকেলটি কিনেছিলাম। আমি কখনো ভাবিনি মোটরসাইকেলটি ফিরে পাব। কিন্তু দুই যুবকের সাহসিকতায় মোটরসাইকেলটি পেলাম। আমি তাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। 

ইমরান হোসেন ও হৃদয় হোসেন বলেন, অন্যায়কারীরা সব সময় দুর্বল থাকে। এ কথা ভেবে জীবনের ঝুঁকি জেনেও হাল ছাড়িনি। ধাওয়া দিয়ে ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে মালিককে দিতে পেরেছি এটাও আমাদের কাছে আনন্দের বিষয়।

ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সিরাজুল ইসলাম বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছিনতাইকারীদের ধাওয়া করে মোটরসাইকেল উদ্ধার করা অনেক কঠিন বিষয়। দুই যুবক অনেক সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাদের এক হাজার টাকা পুরস্কার দিয়েছি।