• শনিবার ২৫ মে ২০২৪ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ১০ ১৪৩১

  • || ১৬ জ্বিলকদ ১৪৪৫

নদী ভাঙন আতঙ্কে পদ্মাপাড়ের মানুষ

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ১৩ মে ২০২৪  

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের কাঞ্চনপুর ইউনিয়নে পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে নতুন করে আতঙ্কে রয়েছেন পদ্মাপাড়ের কয়েক হাজার মানুষ। প্রায় এক মাস আগে নদীতে জোয়ারের পানি আসতেই কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের কোটকান্দি থেকে মালুচী ঘাট এলাকায় তীব্র স্রোত এবং ঢেউয়ের আঘাতে ভাঙন শুরু হয়।

এতে বেশকিছু ফসলের জমি নদীতে বিলীন হয়েছে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে বসতবাড়িসহ গাছপালা। রোববার (১২ মে) ভাঙনকবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জোয়ারের পানির তীব্র স্রোত আর ঢেউয়ের আঘাতে নদীর তীরে ধসে পড়ছে। এ ছাড়া অনেক জায়গায় ৫০ ফুট দৈর্ঘ্যজুড়ে ফাটল ধরেছে।

মালুচী গ্রামের বাসিন্দা গোপাল সরদার বলেন, আমার বাড়ি এক ভাঙনে চলে গেছে। এখন আছি পদ্মা পাড়েই। কখন জানি এটুকুও চলে যায়। গত ২০/২৫ দিন আগে পানি বাড়ায় সঙ্গে সঙ্গে আবার ভাঙন শুরু হইছে। তবে ২/৩ দিন ধরে পানি কমতে থাকায় আপাতত ভাঙতেছে না। পানি বাড়া শুরু হলে আবার ভাঙন শুরু হবে। সামনে চর পড়ার কারণে তীরে গভীরতা বেশি। তাই স্রোত আর ঢেউয়ের আঘাতটা বেশি লাগে। তাই ভাঙনও দেখা দেয়।

মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন বলেন, হরিরামপুরের বেশিরভাগ এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। অবশিষ্ট কোটকান্দি থেকে মালুচি ঘাট পর্যন্ত প্রায় ৭০০ মিটার, কাঞ্চনপুরে আরও ৫০০ মিটার এবং আজিমনগর, সুতালড়ী ও লেছড়াগঞ্জ চরাঞ্চলে ৫০০ মিটার করে মোট ২৭০০ মিটার নদী তীরবর্তী এলাকায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং এর জন্য মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বরাবর বাজেটের জন্য প্রস্তাবনা পাঠিয়েছেন। বাজেট অনুমোদন পেলেই আমরা এসব এলাকায় কাজ শুরু করতে পারব। আমাদের যে পরিমাণ চাহিদা সে অনুযায়ী বাজেট খুবই সীমিত। তাই আমাদের ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় অনেক কিছু করতে পারি না।

এ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯টি ইউনিয়নর কয়েক হাজার মানুষ নদীভাঙনের কবলে পড়ে ঘরবাড়ি ও জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। গত কয়েক বছরে এ উপজেলার ধূলশুড়া ইউনিয়ন থেকে কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন পর্যন্ত নদী ভাঙন রোধে তীর রক্ষা কাজে শতশত কোটি টাকার জিও ব্যাগ ফেলে অস্থায়ী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ করা হয়েছে।