• বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৬ ১৪৩১

  • || ১২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

সাভারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত ১৩০০ কেজির মহিষ `পাঠান`

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ৯ জুন ২০২৪  

সাভারের আশুলিয়ায় কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য ১৩৩০ কেজি ওজনের মহিষ প্রস্তুত করেছে একটি খামারি প্রতিষ্ঠান। তাদের ধারণা, উচ্চ মূল্যে বিক্রি হবে এই মহিষ। এ মহিষটি এরই মধ্যে নজর কেড়েছে সবার।

শুক্রবার (৭ জুন) বিকালে আশুলিয়ার শ্রীপুর গণকবাড়ি এলাকায় খামারে গিয়ে দেখা মেলে একটি বিশালাকার মহিষের। খামারিরা এটির নাম দিয়েছেন, পাঠান। বর্তমানে এটির ওজন ১৩৩০ কেজি। বিশ্বে বড় জাতের হিসেবে পরিচিত জাফরাবাদি জাতের অন্তত ৬০টি মহিষ রয়েছে এ খামারে। শখ থেকে নয় বছর আগে সাত বিঘা জমিতে কাইয়ুম এগ্রো খামার গড়ে তোলা হয়। শুরুতে এতে শুধু গরু ছাগল থাকলেও এখন পালন করা হচ্ছে মহিষ ও দুম্বাও। তাদের দাবি, সবচেয়ে বেশি মহিষ রয়েছে তাদের খামারে। আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে বিক্রির জন্য ২০০টি মহিষ প্রস্তুত করা হয়েছিল। যার মধ্যে ৮০% মহিষ এরই মধ্যে বিক্রি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের মালিক মো.আব্দুল কাইয়ুম। 

সবচেয়ে বেশি মহিষ রয়েছে তাদের খামারে দাবি করে কাইয়ুম এগ্রোর মালিক মো. আব্দুল কাইয়ুম জানান, দেশের অনেক জায়গায় মহিষ পালন করা হয়। তবে আমাদের এখানে সম্ভবত খামারি হিসেবে সবচেয়ে বেশি মহিষ রয়েছে। বর্তমানে আমাদের খামারে ২০০-র মতো মহিষ রয়েছে। মহিষের রোগ ব্যাধি কম। মহিষের মাংসে গরুর চেয়ে ক্ষতিকর খাদ্য উপাদান কম আছে। অনেকেই এখন মহিষের মাংসের দিকে ঝুঁকেছে। তাই আমিও মহিষ পালন শুরু করেছি। গরুর চেয়ে কম মানের খাবার খেয়েও তারা ভালো থাকে, তাই খামারিরাও ঝুঁকছে। মহিষের খরচের তুলনায় বিক্রিতে লাভ থাকে বেশি। গরুর পাশাপাশি আমিষের খুব ভালো একটি উৎস মহিষ।

তিনি আরও বলেন, খামারে ওজন স্কেল বসানো হয়েছে। ক্রেতারা এসে ওজন করে মহিষ কেনেন। ৩০০ থেকে ৬০০ কেজির মহিষগুলো বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৪৩০-৫৫০ টাকায়। তবে এর চেয়ে বড় আকারের মহিষ ওজনে বিক্রি হয় না। সেগুলো দামাদামি করেই বিক্রি হয়। বড় আকারের মহিষ পাঠানের বিষয়ে তিনি বলেন, তিন বেলা প্রায় ৩০-৪০ কেজি করে খাবার খায় এটি। দিনে ৫-৬ বার গোসল করানো হয় এটিকে। শরীরে যাতে চামড়া না ফেটে যায় এজন্য একদিন পরপর সরিষার তেল মালিশ করা হয়। একইভাবে প্রত্যেকটি পশুকেই এখানে যত্ন নিয়ে পালন করা হয়।

গরু বা মহিষের দুধের পাশাপাশি ঘি ও সরিষার তেল বিক্রিসহ মো. আব্দুল কাইয়ুম জানান, এই খামারের পশু কেনা যায় অনলাইনেও। আর ঢাকার আশেপাশের এলাকায় দেওয়া হয় ফ্রি ডেলিভারি। গরু বা মহিষের দুধের পাশাপাশি ঘি ও সরিষার তেল বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিদিন স্থানীয় ক্রেতারা এসে দুধ কিনে নিয়ে যান। ২০২৩ সালে বিবিএসের শুমারি অনুযায়ী, ২০১৩ সালে দেশে মহিষের সংখ্যা ছিল ১৪ লাখ ৫৭ হাজার। বর্তমানে এর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ১৬ হাজার। গত দশ বছরে বেড়েছে ৫৯ হাজার। ২০১৭ সালে ১৪ লাখ ৭৯ হাজার মহিষ ছিল এদেশে। উন্নতি হয়েছে ২০২০ সালে। ২০১৯ সালে ১৪ লাখ ৯৩ হাজার মহিষ, ২০২০ সালে বেড়ে ১৫ লাখ হয়েছে মহিষের সংখ্যা।