• বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৬ ১৪৩১

  • || ১২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

সাভারে টোকেন দিয়ে চাঁদাবাজি

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ৯ জুন ২০২৪  

সাভার পৌরসাভার বিভিন্ন সড়কে টোকেন দিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। চক্রটি টোকেনে পৌরসভার নাম ব্যবহার করে ভুয়া রসিদ তৈরি করে প্রতিদিন শত শত যানবাহন থেকে লক্ষাধিক টাকা চাঁদা আদায় করছে। অভিযোগ রয়েছে, যুবক ও কিশোরদের দিয়ে এ চাঁদাবাজি করাচ্ছে প্রভাবশালী একটি মহল। দিন শেষে এ টাকার ভাগ যায় বিভিন্ন পকেটে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা এ চাঁদা আদায় করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

সাভার পৌরসভার শাহীবাগ, বাজার রোড, নামাবাজার, গেন্ডা বাসস্ট্যান্ড, বিনোদবাইদ কামাল গার্মেন্টস রোড, উলাইল, রেডিও কলোনি, জামসিং রোডে এলাকাভিত্তিক গড়ে উঠেছে এসব চাঁদাবাজ। এমনকি গাড়ি পার্কিং করতে হলেও গাড়ির প্রকার ভেদে দিতে হয় আলাদা চাঁদার টাকা।

জানা যায়, সাভার পৌর এলাকার বিভিন্ন শাখা সড়কের চলাচলরত বিভিন্ন কোম্পানির কাভার্ড ভ্যান, বাড়ি নির্মাণের ইট, বালু, সিমেন্টবাহী ট্রাক, বাসাবাড়ি পালটানোর মালবাহী ট্রাক, মালবাহী পিকআপ, লেগুনা, অটোরিকশা থেকে ভুয়া রসিদ দিয়ে টোল আদায়ের নামে ব্যাপক চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। এতে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারাও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। চাঁদাবাজরা যানবাহনচালকদের হাতে একটি রসিদ ধরিয়ে দিচ্ছে তাতে শিরোনামে ‘সাভার পৌরসভা কর্তৃক ইজারাকৃত সব যানবাহনের টোল’ লেখা রয়েছে।

ইজারাদার হিসেবে সোনালী বেগমের নাম রয়েছে। পিকাআপ ৮০ টাকা, ট্রাক ১২০ টাকা, কাভার্ড ভ্যান ১৫০ টাকা লেখা রয়েছে। চাঁদাবাজদের পক্ষে ৮-১০ জনের কিশোর গ্যাংয়ের একটি দল নিয়মিত মোটা অঙ্কের হাজিরায় এ চাঁদা আদায় করছে। শুধু শাহীবাগ চৌরাস্তার মোড়ে রাত-দিন দুই শিফটে টোল আদায়ের নামে এ চাঁদা আদায় করা হয়। এ ঘটনায় প্রায়ই বিভিন্ন যানবাহনের ড্রাইভারদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে এই চাঁদাবাজরা।

সড়কের যাত্রী ও চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাঁদা আদায়ের জন্য সড়কের মাঝখানে চলন্ত গাড়ি থামানোর কারণে সব সময় যানজট লেগেই থাকে। তাই ঐ সড়কে চলাচলরত যানবাহনের মালিক ও ড্রাইভাররা টোলের নামে এ ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধের জন্য প্রশাসনের কার্যকরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অপরদিকে আশুলিয়ার টঙ্গী-বাইপেল সড়কের জামগড়া নরসিংহপুর এলাকাসহ বিভিন্ন সড়কে চলছে লাইসেন্স ও ফিটনেসবিহীন সিএনজি অটোরিকশা, মাহেন্দ্রা, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন। এসব যানবাহন থেকে ব্যাপক চাঁদাবাজি হচ্ছে। রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে যানজট সৃষ্টি করে চাঁদা আদায় করা হয়।

একাধিক অটোরিকশা ও লেগুনাচালক অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা চাঁদা দিতে না চাইলে তারা দল বেঁধে লাঠি নিয়ে কখনো গাড়ির গ্লাস ভাঙে আবার কখনো-বা মারতে আসে। সারা দিন যতবার গাড়ি বের করা হয়, ততবারই এই চাঁদা দিতে হয়। এভাবে চাঁদাবাজি চললে আমরা এর বিচার চাইব কোথায়’? ইতিপূর্বে এ চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে সাভার বাসস্ট্যান্ডে বিক্ষোভ ও মিছিল করেছিল লেগুনা ও অটোরিকশা চালক ও মালিকরা।

সাভার পৌরমেয়র হাজি আব্দুল গণি সাংবাদিকদের বলেন, পাড়া-মহল্লা বা সড়কে টোল আদায়ের জন্য কাউকে ইজারা দেওয়া হয়নি। শুধু বাজারগুলোতে কুলি বিটের ইজারা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, প্রশাসনের উচিত সড়কে চাঁদাবাজ যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনা।