• বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০২৪ ||

  • আষাঢ় ৬ ১৪৩১

  • || ১২ জ্বিলহজ্জ ১৪৪৫

ইজারার আগেই হাট দখল

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ১০ জুন ২০২৪  

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৭টি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা সম্পন্নের আগেই হাটের মাঠ দখল করে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। হাটের ইজারা না থাকলেও কোরবানির পশু তোলা হয়ে গেছে কোনো কোনোটিতে। দরপত্র সর্বোচ্চ মূল্য দিয়েও হাটগুলোর ইজারা পাবে কি না; সেই শঙ্কায় রয়েছে দরপত্রে অংশ নেওয়ার ইচ্ছুক সাধারণ ইজারাদাররা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইজারার আগেই হাট প্রস্তুতি করতে কাজ করছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। তারা প্রতিবছর নামমাত্র মূল্যে সিন্ডিকেট করে প্রভাব খাটিয়ে ইজারা নিজেদের করে নেন। এ কারণে সরকার বিশাল অঙ্কের একটা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কেরানীগঞ্জের ৭টি স্থানে অস্থায়ী পশুর হাটের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। খাড়াকান্দি মাঠ, জিনজিরা বাজার, রসুলপুর মাদ্রাসা সংলগ্ন হাট, আগানগর বালুর মাঠে, রাজাবাড়ি, নতুন সোনাকান্দা ধরেশ্বরী নদীর পাড়ে হাট এবং হাসনাবাদ বালুর মাঠে হাট। এ-সংক্রান্ত দরপত্রের সিডিউল ৯ জুন থেকে ১১ জুনের মধ্যে কেরানীগঞ্জ উপজেলা কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। 

দরপত্র দাখিলের সময় দেওয়া হয়েছে ১২ জুন দুপুর ১২টা। সরেজমিনে দেখা গেছে, সিডিউল সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হলেও ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে বেশ কয়েকটি হাটের প্রস্তুতি। কোরবানি উপলক্ষে রাজধানীতে বসছে ২২টি পশুর হাট আগানগর গিয়ে দেখা গেছে, ওই স্থানগুলোতে বাঁশের খুঁটি পুঁতে প্যান্ডেল টাঙিয়ে হাট বসানোর কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। হাটগুলোতে গরু আসতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে দুএকটি হাটে ক্রেতা আসতে শুরু হয়েছে।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক শ্রমিকরা জানান, আমরা মজুরিতে কাজ করছি। আমাদের বাঁশ দিয়ে গরু বাঁধার খুঁটি তৈরি করতে বলা হয়েছে, তাই করছি। ইজারাদারের নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন স্থানে পোস্টারিং ও মাইকিং করা হচ্ছে। হাসনাবাদ কন্টেইনার পোর্ট রোডে অস্থায়ী হাটের সার্বিক তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে পোস্টারিং করা ঢাকা জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি এমদাদুল হক দাদন জানান, আমরা প্রতিবছর হাট পেয়ে থাকি। এ বছরও পাব। এটা নিশ্চিত জেনেই হাটের সমস্ত কাজ আগেভাগেই শেষ করেছি।

জিনজিরা ও আশপাশের এলাকায় জিনজিরা হাটের ইজারাদার মো. জাহিদ হোসেনের নাম সংবলিত পোস্টার দেখা যাচ্ছে। সেখানে হাটের তারিখ ১২ জুন থেকে ঈদের দিন পর্যন্ত লেখা রয়েছে। অথচ প্রশাসনের অনুমতি রয়েছে ১৪ জুন থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রিয়াদ বলেন, ইজারা দেওয়ার পূর্বে হাট স্থাপনের কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ নিয়ম ভেঙে অস্থায়ী পশুর হাট স্থাপন করে কার্যক্রম পরিচালনা করে, তা অবৈধ। যারা এধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।