• বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ৮ ১৪৩০

  • || ১০ শা'বান ১৪৪৫

ভিক্ষুক বললেন, ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ১ ডিসেম্বর ২০২৩  

মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে ভিক্ষুক বললেন, ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ষাটোর্ধ্ব আবুল মুনসুর। বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) উপজেলার সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাহী কর্মকর্তা জুয়েল আহমেদের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি।

জুয়েল আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বাংলাদেশি যেকোনো ব্যক্তি মনোনয়নপত্র কিনতে চাইলে আমি দিতে বাধ্য। তেমনি জমা দিতে চাইলেও আমি নিতে বাধ্য। কারণ, এটি তার গণ়তান্ত্রিক অধিকার। দ্বারে দ্বারে ঘুরে ভিক্ষা করা আবুল মুনসুর গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ত্রিশাল উপজেলার বইলর থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছিলেন। এবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্যেও মনোনয়নপত্র জমা দিলেন তিনি।

আবুল মুনসুর বইলর ইউনিয়নের বড়পুকুরপাড় গ্রামের বাসিন্দা। অল্প বয়সেই দিনমজুরের কাজে নেমেছিলেন তিনি। বিয়ের পর অন্যের রিকশা ভাড়ায় চালিয়ে রোজগারের পথ বেছে নেন। ১০-১২ বছর পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে শুরু করেন ভিক্ষাবৃত্তি। আবুল মুনসুরের চার ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে দুই ছেলে কর্মজীবী। এরপরও ১৪ বছর ধরে ভিক্ষা করেই চলছে তার সংসার। কিন্তু সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা জোটেনি কপালে। এই ক্ষোভ থেকেই জনপ্রতিনিধি হওয়ার স্বপ্ন জাগে বৃদ্ধের মনে।

স্বপ্নপূরণে গত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে বইলর থেকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হন ভিক্ষুক আবুল মুনসুর। তখন পাঁচ প্রার্থীর মধ্যে চশমা প্রতীক নিয়ে ৩৭৭ ভোট পেয়ে চতুর্থ অবস্থানে থেকে আলোচনায় আসেন তিনি। স্থানীয়রা বলেন, প্রত্যেক চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থী বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করেন নির্বাচনে। অথচ কোনো খরচ ছাড়াই মুনসুর পেয়েছিলেন ৩৭৭ ভোট।

গতবারের মতো এবারও ভোর থেকে রাত অব্দি পাড়া মহল্লা, হাটবাজারে একাই জনগণের কাছে ভোট চাইছেন তিনি। অনেকে এটিকে পাগলামি বললেও কেউ কেউ নির্বাচনে টাকার ছড়াছড়ি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নীরব প্রতিবাদ বলে মনে করছেন এবং তাকে উৎসাহ দিচ্ছেন। আবুল মুনসুর জানান, ইউপি নির্বাচনে অনেক ভোটার সমর্থন করেছিলেন। সাড়া দিয়ে পাশে ছিলেন। নিরীহ প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।