• বৃহস্পতিবার ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ||

  • ফাল্গুন ৮ ১৪৩০

  • || ১০ শা'বান ১৪৪৫

সীমান্তে মিলছে একের পর এক মর্টারশেল

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪  

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুমে একের পর এক উদ্ধার করা হয়েছে অবিস্ফোরিত মর্টারশেল। সর্বশেষ শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঘুমধুমের তুমব্রু পশ্চিমকুল এলাকা থেকে আরও একটি মর্টার শেল উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে গেল তিন দিনে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে তিনটি মর্টারশেল।

একের পর এক মর্টারশেল উদ্ধার হওয়ার কারণে আতংক দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মনে। হঠাৎ করে এসব মর্টারশেল কোথা থেকে আসছে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে আতংক হওয়ার কিছু নেই। তথ্য মতে, গেল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘুমধুম ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ড নোয়াপাড়া এলাকা থেকে একটি এবং শুক্রবার দুপুরে তুমব্রু পশ্চিমকূল বিজিবি ক্যাম্পের কাছাকাছি এলাকার ধানক্ষেতে একটি অবিস্ফোরিত মর্টারশেল উদ্ধার করা হয়। সর্বশেষ শনিবার বিজিবি ক্যাম্পের কাছাকাছি ব্রিজ থেকে একটিসহ মোট ৩টি অবিস্ফোরিত মর্টারশেল উদ্ধার করা হয়। মিয়ানমার থেকে ছোঁটে আসা অবিস্ফোরিত আরো মর্টারশেল থাকতে পারে বলে ধারণা স্থানীয়দের।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই মর্টার শেলগুলো মিয়ানমারের বিজিপি সদস্যরা পালিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করার সময় ফেলে রেখে দিয়েছে অথবা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী বিজিপি সদস্যদের লক্ষ্য করে আরকান আর্মির ছোঁড়া অবিস্ফোরিত মর্টারশেল হতে পারে। জমিতে চাষ করতে গিয়ে একের পর এক মর্টারশেল দেখতে পাচ্ছে। আর খবর পেয়ে বিজিবি নিজেদের আয়ত্বে নিচ্ছে মর্টারশেলগুলো। ইতোমধ্যে উদ্ধার হওয়া একটি মর্টার শেল ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান একেএম জাহঙ্গীর আজিজ। তিনি বলেন, সীমান্তের ওপারে প্রচণ্ড গোলাগুলির কারণে এতদিন মাঠে যেতে পারেননি কৃষকরা। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলি কমে আসায় চাষে নামতে শুরু করেছে কৃষকরা। মূলত জমিতে চাষ করতে গিয়ে এসব মর্টারশেলের সন্ধান পেয়ে বিজিবিকে খবর দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সীমান্ত এলাকার মানুষ গোলাগুলির শব্দে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। তবে মর্টারশেল উদ্ধার হওয়ার পর নতুন করে আতংক দেখা দিয়েছে।

সাইফুল ইসলাম তুহিন নামে স্থানীয় যুবক বলেন, গোলাগুলির মুখে টিকতে না পেরে বিজিপির সদস্যরা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে আরকান আর্মিদের লক্ষ্য করে গুলি করে। আরকান আর্মিও তাদের লক্ষ্য করে গুলি এবং মর্টারশেল নিক্ষেপ করেছে। যা ইতিপূর্বে আমাদের বিভিন্ন বাড়িতে গুলি ও মর্টারশেল এসে পড়েছে। অবিস্ফেরিত মর্টার শেলগুলো হয়তো অনুপ্রবেশকারী বিজিপি সদস্যকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া। সীমান্তের কাছাকাছি চাষের জমিতে আরও গোলা, রকেট লঞ্চার ও মর্টারশেল থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘুমধুম পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মাহফুজুল ইমতিয়াজ ভূঁয়া বলেন, সীমান্ত এলাকা বিজিবির নিয়ন্ত্রণে থাকে। মর্টারশেল পড়ে থাকার খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে সবক’টি নিজেদের হেফাজতে নেয়। ইতোমধ্যে একটি নিষ্কৃয় করা হয়েছে। আরও দুটি এখনো তাদের হেফাজতে রয়েছে। ওপারে এখন গোলাগুলি কমেছে। আমাদের এখনে আতংক কমেছে। তবে মর্টারশেল উদ্ধারের পর স্থানীদের মাঝে কিছুটা আতংক দেখা দিয়েছে।