• মঙ্গলবার   ২৪ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৯ ১৪২৯

  • || ২২ শাওয়াল ১৪৪৩

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে করোনাভাইরাস শনাক্তের হার ৭০%

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ২৩ জানুয়ারি ২০২২  

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্তের হার ৭০%। সশরীরে ক্লাস শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৭০ জন শিক্ষক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। 

সাভারের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৮৭ জন শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনাভাইরাস পরীক্ষা করেছেন। এদের মধ্যে ৬১ জন কোভিড-১৯ পজিটিভ। এছাড়া গত ২১ অক্টোবর সশরীরে ক্লাস শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৭০ জন শিক্ষক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ জ্বর, সর্দি, হাঁচি, কাশিসহ করোনাভাইরাসের বিভিন্ন উপসর্গে ভুগছেন। যারা কেউই করোনাভাইরাস পরীক্ষা করাননি।

শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অস্থায়ী বুথ স্থাপন করে করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি করোনাভাইরাসের টিকার দ্বিতীয় ডোজ এবং বুস্টার ডোজের ব্যবস্থা ক্যাম্পাসেই করার দাবি তাদের। 

স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, হলগুলোতে আইসোলেশন কক্ষ বাড়ানো প্রয়োজন। প্রয়োজন ছাড়া হল থেকে বের হওয়া বা ক্যাম্পাসের বাইরে যাওয়ার ব্যাপারে বিধিনিষেধ আরোপ করা জরুরী।

এদিকে করোনাভাইরাস মহামারি পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সশরীর ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে আবাসিক হলগুলো খোলা থাকবে।

শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “শুক্রবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে এক জরুরি সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে ওমিক্রন প্রতিরোধে ৯ জানুয়ারি থেকে সশরীর ক্লাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।”

মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, “আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সশরীর সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। এ সময়ে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চলমান থাকবে। আবাসিক হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থী, সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।”

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগার সকাল নয়টা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত শুধু বইপত্র আদান–প্রদানের জন্য খোলা থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দপ্তরগুলোর কার্যক্রম সকাল নয়টা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত চলবে।

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মো. নূরুল আলম বলেন, “আমরা ওমিক্রন প্রতিরোধে ইতোমধ্যে সকল ক্লাস অনলাইনে নিচ্ছি। প্রত্যেক হলে আইসোলেশনের ব্যবস্থা করেছি। তবে আমাদের জন্য ভয়ের কারণ হলো যদি কেউ লুকিয়ে রাখে। টেস্ট করে আসলে আমরা তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারি আইসোলেশনে রাখতে পারি কিন্তু টেস্ট করে না লুকিয়ে রাখে।”

ক্যাম্পাসে কোভিড পরীক্ষা ও টিকার বুথ স্থাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে ক্যাম্পাসে করোনাভাইরাস পরীক্ষা ও টিকার বুথ স্থাপনের বিষয়ে জানিয়েছিলাম। কিন্তু তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাইনি।”