• বৃহস্পতিবার   ০৬ অক্টোবর ২০২২ ||

  • আশ্বিন ২১ ১৪২৯

  • || ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

সাভারে স্কুলছাত্রী হত্যার দেড় মাস পর পরিচয় ও রহস্য উদঘাটন

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০২২  

সাভারে স্কুলছাত্রী হত্যার দেড় মাস পর তার পরিচয় ও হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার (১৪ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হক। এর আগে রবিবার বিকেলে আদালতে তোলা হলে আসামিরা দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

নিহত সুমনা আক্তার রাইসা (১৬) বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানার সুমন হাওলাদারের মেয়ে। তিনি সাভারের আইচানোদ্দা এলাকায় বাবা-মায়ের সঙ্গে ভাড়া থেকে স্থানীয় লিটল স্টার স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবম শ্রেণিতে লেখাপড়া করত।

গ্রেপ্তাররা হলেন- রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ থানার বাচ্চু মিয়ার ছেলে আশিক (২২), তিনি সাভারের সবুজবাগ এলাকার লুৎফরদের বাড়ির ভাড়াটিয়া, রাজবাড়ী জেলার ইমরান হোসেনের ছেলে রাকিব (২০), মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় থানার নুরুল ইসলাম নুরুর ছেলে সাকিব (২০), সিরাজগঞ্জের আবুল কাশেমের ছেলে মিজানুর রহমান (২০)। তারা সবাই সাভারের সবুজবাগ এলাকায় ভাড়া থেকে সাভার স্ট্যান্ড এলাকার হকার ছিলেন।

পুলিশ জানায়, সুমনা আক্তার রাইসা আক্তারের সঙ্গে হকার আশিকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। দুই থেকে তিন মাস প্রেমের সম্পর্কে ফাটল ধরে তাদের। পরে আশিকের বন্ধু সাকিব তাদের সম্পর্কের উন্নতি ঘটানোর জন্য রাইসার ফোন নম্বর নিয়ে কথা বলে। সাকিবের সঙ্গে কথা বলতে বলতে সাকিবের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায় রাইসা। একাধিক প্রেমে জড়িয়ে পড়লে আসামিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই ক্ষোভ থেকেই গত ২৭ জুন রাইসাকে কৌশলে সাভার শিমুলতলা এলাকায় ডেকে নেয় তারা। সেখান থেকে এসেট স্কুলের সামনে নিয়ে চড়-থাপ্পড় দেয় তারা। একপর্যায়ে আশিক তার পকেটে থাকা সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে রাইসার পেটসহ বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আব্দুল হক বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। তবে তার পরিচয় শনাক্ত করতে ব্যর্থ হলে সাভারের প্রায় সব পোশাক কারখানায় নিহতের ছবি প্রকাশ করেন। ঘটনার প্রায় দেড় মাস পর গত শনিবার নিহতের বাবা তার মেয়ের ছবি কারখানায় দেখতে পেয়ে থানায় আসেন। পরে নিহতের বাবা আশিকের সঙ্গে প্রেমের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আশিক তাদের বাড়িতেও গিয়েছিল। আশিকের খোঁজ নিয়ে জানা যায় তিনি সাভার স্ট্যান্ডে হকারের ব্যবসা করেন। পরে অভিযান চালিয়ে বিকেলে মিজান ও আশিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যমতে রবিবার ভোর রাতে বাকি দুজনকে গ্রেপ্তার করে সকালে আদালতে পাঠানো হয়।

এসআই আব্দুল হক আরো বলেন, মেয়ে নিখোঁজের পর নিহতের বাবা থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন। কিন্তু সাধারণ ডায়েরির সঙ্গে ছবি না থাকায় রাইসাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। হত্যাকাণ্ডের প্রায় দেড় মাস অতিবাহিত হলেও কোনো মামলা না হওয়ায় আসামিরা আবার এসে হকারের ব্যবসা শুরু করেন। এর আগে তারা গা ঢাকা দিয়েছিলেন। পরে ছবি দেখে নিহতের বাবা থানায় আসলে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। আজ বিকেলে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাবেয়া বেগম, সাইফুল ইসলাম ও রাকিব হাসানকে আদালতে তোলা হলে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ জুন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে সাভারের শিমুলতলা এলাকা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। পরে তাকে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ এন্ড হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। তবে নিহতের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় প্রায় দেড় মাস মর্গেই পড়েছিল লাশ।