• মঙ্গলবার   ১৬ আগস্ট ২০২২ ||

  • শ্রাবণ ৩১ ১৪২৯

  • || ১৮ মুহররম ১৪৪৪

জাবিতে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯  

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুইটি গ্রæপের মধ্যে সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ চলাকালে ইটের আঘাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। দুই গ্রæপের আহতরা হলেন- ছাত্রলীগ কর্মী সাজ্জাত, বাহার, মোস্তফা, উৎস ও রনি।

 

বুধবার সন্ধ্যা ছয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সাড়ে ছয়টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে পরিস্থিতি  স্বাভাবিক  হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার বিকেলে শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি রাজিব আহমেদ রাসেল তার স্ত্রী সহ ক্যাম্পাসে আসেন। এ সময় শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এস এম আবু সুফিয়ান চঞ্চল তার নেতাকর্মীদেরকে সাথে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে রাসেলকে মারধর করেন বলে অভিযোগ উঠে।

 

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজিবের অনুসারীরা পিস্তল, রড, লাঠিসোটা, ইটপাটকেল সহ বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে বের হয়ে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অবস্থানরত শহীদ সালাম বরকত হলে হামলা চালায়। এতে দুই গ্রæপের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে চলকালে সর্বমোট ৬ রাউন্ড গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমান সম্পাদকের অনুসারীদের দিক থেকে ২রাউন্ড এবং সাবেক সম্পাদকের অনুসারীদের দিক থেকে ৪ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, শহীদ সালাম বরকত হল, মওলানা ভাসানি হল, শহীদ রফিক-জব্বার হল, রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর হল ও আল বেরুনী হলের নেতাকর্মীরা অংশ নেয়।

 

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেল বলেন, ‘চঞ্চলের নেতৃত্বে আমার উপর অতর্কিতভাবে হামলা করা হয়েছে। আমার সামনে আমার স্ত্রীকে লাঞ্ছিত করেছে।’  

শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল বলেন, ‘আমার সাথে রাজিব ভাইয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে দেখা হয়। আমি ওনাকে বলি- আপনি আসলে ক্যাম্পাসে নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা তৈরী হয়, তাই আপনি চলে যান। পরবর্তীতে আমাকে মারার জন্য উনি লোকজন জড়ো করতে থাকলে আমি ওইখান থেকে চলে আসি। পরবর্তীতে তার (রাজিব) অনুসারীরা আমার হলে এসে হামলা করলে হলের শিক্ষার্থীরা তাদেরকে প্রতিরোধ করেছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তাতে যে কোন মূহুর্তে আবার সংঘর্ষ বাঁধতে পারে। তাই আমরা পুলিশ মোতায়ন করেছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘আজ যে পরিমাণ অস্ত্র দেখা গেছে তাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে তল্লাশী চালানো দেওয়া এখন সময়ের দাবি। আমরা হলগুলোতে তল্লাশী করার কথা ভাবছি।’

প্রসঙ্গত, ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তার ও বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা নিয়োগ বানিজ্যের নিয়ন্ত্রন নিয়ে চলে আসা দ্ব›দ্ব থেকেই এমন ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এমন ঘটনা ছাত্রলীগের সুনাম নষ্টের পাশাপাশি সাংগঠনিক ভিত্তিকে দূর্বল কওে দিচ্ছে বলেও মনে করেন তারা।