• রোববার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১ ||

  • আশ্বিন ১০ ১৪২৮

  • || ১৮ সফর ১৪৪৩

সাংবাদিকের ওপর হামলা, সিকিউরিটি সুপারভাইজার কারাগারে

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১  

সাভারে চাঁদাবাজির সংবাদ সংগ্রহকালে যুগান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক মতিউর রহমান ভাণ্ডারীর ওপর হামলার ঘটনায় অবশেষে মামলা নিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় আটক সাভার নিউমার্কেটের সিকিউরিটি সুপারভাইজার আব্দুল খালেক মোল্লাকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে সোমবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়।

মামলাটি আদালতে উত্থাপন করা হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট খায়রুজ তাসনিম মঙ্গলবার শুনানির দিন ধার্য করে আব্দুল খালেক মোল্লাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 

গ্রেফতার আব্দুল খালেক আশুলিয়ার কলতাসুটি নয়াবাড়ি এলাকার মৃত শাহাবুদ্দিন মোল্লার ছেলে। তিনি রাজধানীর মিরপুর এলাকার সানফোর্স সিকিউরিটি কোম্পানি লিমিটেডের একজন সদস্য। তিনি সাভারের স্মরণিকা এলাকায় ভাড়া থেকে সাভার নিউমার্কেটে চাকরি করেন।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক মতিউর রহমান অভিযোগ করেন, আমার ওপর হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগপত্র থেকে মার্কেট কর্তৃপক্ষের নাম বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যে পুলিশ রোববার আমাকে ৭-৮ ঘণ্টা বসিয়ে রাখে। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে মামলাটি রুজু করা হয়। এর আগে দুপুরে সাভার নিউমার্কেটের সামনে চাঁদাবাজির সংবাদ সংগ্রহকালে আমার ওপর হামলা চালায় সাভার নিউমার্কেটের নিরাপত্তা কর্মীরা।

সাভার মডেল থানার ওসি কাজী মাঈনুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় রাতেই মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে সোমবার দুপুরে সিকিউরিটি সুপারভাইজার আব্দুল খালেককে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত বাকিদেরও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে সাভারে যুগান্তরের সাংবাদিকের ওপর হামলায় উদ্বেগ এবং তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন বিএফইউজে। সোমবার এক বিবৃতিতে বিএফইউজে সভাপতি এম আবদুল্লাহ ও মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন বলেন, মহাসড়ক দখল করে অবৈধভাবে দোকান বসিয়ে চাঁদাবাজির তথ্য সংগ্রহের সময় যুগান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক মতিউর রহমান ভাণ্ডারীর ওপর দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়েছে। হামলায় মতিউরের বাম কান মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিবৃতিতে নেতারা বলেন, হামলার পর ভুক্তভোগীকে থানায় ৭ ঘণ্টা বসিয়ে রেখে মামলা না নেওয়ার ঘটনা সাংবাদিক সমাজের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। এতে দুর্বৃত্তদের সঙ্গে প্রশাসনের যোগসাজশ থাকার সন্দেহ দৃঢ় করেছে। সাংবাদিকদের লেখনী নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে প্রভাবশালীদের যে অপতৎপরতা চলছে সাভারের ঘটনা তারই ধারাবাহিকতা বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া বিবৃতিতে অনতিবিলম্বে হামলায় জড়িত এবং তাদের মদদ দানকারীদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করার মাধ্যমে স্বাধীন সাংবাদিকতার সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।