• বুধবার   ১৭ আগস্ট ২০২২ ||

  • ভাদ্র ২ ১৪২৯

  • || ২০ মুহররম ১৪৪৪

ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ: দায়ী কে?

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ৯ জুলাই ২০২২  

ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বিশ্ব ইতিহাসে ঘৃণ্য কালো আইন নামে সমধিক পরিচিত। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে নিকৃষ্ট অন্তরায় হিসেবে আবর্তিত হওয়া জগদ্দল পাথর। একটি স্বাধীন দেশে জাতির পিতার নৃশংস হত্যাকান্ডের বিচারের পথ বন্ধ করে দেয়া পঙ্কিল অধ্যায়।

একের পর এক সংবিধান লঙ্ঘনের কলঙ্কিত দলিল। পৃথিবীর আর কোন দেশে এমন কালো আইন ছিল না এবং নেই। প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন, ভারতের মহাত্মা গান্ধী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্ধিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধী, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজীর ভুট্টো, শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট বন্দর নায়েকসহ বিশ্বের অনেক খ্যাতিমান ব্যক্তিকে হত্যার পর সে সকল হত্যার বিচার বন্ধ করে দেয়ার জন্য এমন অধ্যাদেশ কোন দেশেই জারি হয়নি।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর সংবিধান লঙ্ঘন করে স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি বনে যান খন্দকার মোশতাক আহমেদ। সামরিক আইন জারি করা হলেও সে সময় সংবিধান ছিল বলবৎ, যা ছিল এক অদ্ভুত ব্যবস্থা। সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে তদস্থলে উপ-রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রপতিরূপে কাজ করবেন। একইভাবে রাষ্ট্রপতি ও উপ-রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে স্পীকার রাষ্ট্রপতিরূপে কাজ করবেন। সংবিধানের এই বিধান বলবৎ থাকা সত্ত্বেও উপ-রাষ্ট্রপতি এবং স্পীকার দু’জনকেই বাদ দিয়ে ক্ষমতা দখল করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক।

 বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাত্র এক মাস দশদিন পর ২৬ সেপ্টেম্বর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন অবৈধ রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক। ‘দি বাংলাদেশ গেজেট, এক্সট্রা অর্ডিনারী পাবলিশড বাই অথরিটি’ লেখা অধ্যাদেশটিতে স্বাক্ষর করেন খন্দকার মোশতাক। এ অধ্যাদেশে ছিল দুটি ভাগ। প্রথম অংশে বলা হয়েছে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে বলবৎ আইনের পরিপন্থী যা কিছুই ঘটুক না কেন, এ ব্যাপারে সুপ্রীমকোর্টসহ কোন আদালতে মামলা, অভিযোগ দায়ের বা কোন আইনী প্রক্রিয়ায় যাওয়া যাবে না। দ্বিতীয় অংশে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি উল্লিখিত ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে যাদের প্রত্যয়ন করবেন, তাদের দায়মুক্তি দেয়া হলো। অর্থাৎ তাদের বিরুদ্ধে কোন আদালতে মামলা, অভিযোগ দায়ের বা কোন আইনী প্রক্রিয়ায় যাওয়া যাবে না। বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যার পর খুনীদের যাতে বিচার করা না যায়, অবৈধ ক্ষমতা দখলকারীদের আইনগত কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জ করা না যায় এবং হত্যাকান্ডের ষড়যন্ত্র ও নেপথ্যে জড়িতদের যাতে সুরক্ষা দেয়া যায়, তার জন্যই এই কুখ্যাত অধ্যাদেশ জারি করা হয়।

অবৈধ রাষ্ট্রপতি মোশতাক কর্তৃক খুনীদের বাঁচানোর জন্য ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি ছিল দেশের সর্বোচ্চ আইন সংবিধান পরিপন্থী। সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির ক্ষমতা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘সংসদ ভাঙ্গিয়া যাওয়া অবস্থায় অথবা উহার অধিবেশনকাল ব্যতীত, কোন সময়ে রাষ্ট্রপতির নিকট আশু ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয় পরিস্থিতি বিদ্যমান রহিয়াছে বলিয়া সন্তোষজনকভাবে প্রতীয়মান হইলে তিনি উক্ত পরিস্থিতিতে যেইরূপ প্রয়োজনীয় বলিয়া মনে করিবেন, সেইরূপ অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করিতে পারিবেন এবং জারি হইবার সময় হইতে অনুরূপভাবে প্রণীত অধ্যাদেশ সংসদের আইনের ন্যায় ক্ষমতাসম্পন্ন হইবে।’

তবে শর্ত থাকে যে, এই দফার অধীন কোন অধ্যাদেশে এমন কোন বিধান করা হইবে না, (ক) যাহা এই সংবিধানের অধীন সংসদের আইন দ্বারা আইনসঙ্গতভাবে করা যায় না। আইনানুগভাবে কি করা যাবে বা যাবে না, তা সংবিধানের ৭ ও ২৬ অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। ৭ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তাহলে সে আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হবে। এছাড়া ২৬ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সংবিধানে বর্ণিত মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্য আইন বাতিল হবে। ২৬ (২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্র সংবিধানের মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্য কোন আইন প্রণয়ন করবেন না এবং অনুরূপ কোন আইন প্রণীত হলে তা মৌলিক অধিকারের কোন বিধানের সঙ্গে যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর সামরিক আইন জারি হলেও সংবিধানকে বাতিল করা হয়নি বিধায় সংবিধানের বিধানাবলী বলবৎ ছিল। সঙ্গত কারণেই সংবিধানের উল্লিখিত অনুচ্ছেদসমূহের বিধান অনুসারে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা একদিকে ছিল সংবিধান পরিপন্থী, অন্যদিকে যিনি জারি করেছিলেন তিনিও ছিলেন অবৈধ রাষ্ট্রপতি।

সংবিধানের মৌলিক অধিকার হিসেবে ৩১ নং অনুচ্ছেদে আইনের আশ্রয় লাভ এবং ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আইন অনুযায়ী জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতা হতে কাউকে বঞ্চিত করা যাবে না মর্মে বলা হয়েছে। একইভাবে ২৭ অনুচ্ছেদে আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারের কথা এবং ২৬ অনুচ্ছেদে মৌলিক অধিকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্য আইন বাতিল বলে গণ্য হবে মর্মে উল্লেখ রয়েছে। উল্লিখিত বিধানের আলোকে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশে দুই ভাগে যে সকল বিষয় উল্লেখ করে সুরক্ষা দেয়ার কথা বলা হয়েছে তা কোনভাবেই রাষ্ট্রপতিকে অধ্যাদেশ জারির যে ক্ষমতা ৯৩ অনুচ্ছেদ দেয়া হয়েছে সেখানে ঐ সুযোগ ছিল না। 

ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ সংবিধানে প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী হওয়ায় তা সম্পূর্ণ বেআইনী। অপরদিকে সংবিধানের প্রস্তাবনায় রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হিসেবে সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক অধিকার এবং সুবিচার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ সংবিধানে বর্র্ণিত আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার ও সুবিচার লাভের নিশ্চয়তার সঙ্গে সুস্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক ছিল বিধায় সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শুরু থেকে (অধ্যাদেশ জারির মুহূর্ত থেকেই) অসাংবিধানিক ও বেআইনী ছিল।

 অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখল করায় মোশতাক ছিল আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ রাষ্ট্রপতি। একজন অবৈধ রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জারিকৃত সংবিধানবিরোধী অধ্যাদেশ আইনের পরিভাষায় ছিল অবৈধ।

খন্দকার মোশতাকের স্বাক্ষর থাকলেও এই অধ্যাদেশ জারির নেপথ্যের কারিগর ও মাস্টারমাইন্ড ছিলেন জেনারেল জিয়া, যিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার ৯ দিনের মাথায় তৎকালীন সেনাপ্রধানকে হটিয়ে নিজেই সেনাপ্রধান বনে যান। সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে রাষ্ট্রপতির পদ জবরদখলকারী মোশতাকের প্রতি স্বঘোষিত সেনাপ্রধান জিয়ার আনুগত্য প্রকাশ ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারির সঙ্গে জিয়ার সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্পষ্ট করে। সেনাপ্রধান হিসেবে সংবিধান সমুন্নত রাখা, রাষ্ট্রপতির প্রতি আনুগত্য দেখানো তার সাংবিধানিক ও গৃহীত শপথের কর্তব্য ছিল। কিন্তু তিনি অবৈধ রাষ্ট্রপতির প্রতি আনুগত্য এবং অবৈধ রাষ্ট্রপতির বেআইনী অধ্যাদেশ প্রণয়নে ভূমিকা ও সমর্থনের দ্বারা অসাংবিধানিক কাজ করেন। খন্দকার মোশতাককে ৮২ দিন পুতুল রাষ্ট্রপতি রেখে নতুন অধ্যায়ের অবতারণা করে বিচারপতি আবু সাদাত মোঃ সায়েমকে বেআইনীভাবে রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত করেন। আইন অনুযায়ী অসাংবিধানিক সরকারের রাষ্ট্রপতি হবার কোন সুযোগ ছিল না বিচারপতি সায়েমের। ৮ নবেম্বর তাকে রাষ্ট্রপতি এবং সঙ্গে চীফ মার্শাল ল’ এডমিনিস্ট্রেটর করা হয়। যদিও বাংলাদেশে এরূপ কোন পদের আইনগত অস্তিত্ব নেই। জিয়া হয়ে যান উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। বাংলাদেশের সংবিধানে বা অন্য কোন আইনে এরূপ কোন পদের অস্তিত্ব নেই। উপ-প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হয়ে বিচারপতি সায়েমকে দিয়ে কিছুদিন নিজের ইচ্ছা ও খেয়াল-খুশিমতো সব কিছু করাতে থাকেন। এক পর্যায়ে বিচারপতি সায়েম সাধারণ নির্বাচন দেয়ার উদ্যোগ নিলে তা ভ-ুল করে রাষ্ট্রপতি হওয়ার স্বপ্নে বিভোর অতি উচ্চাভিলাসী জিয়া ১৯৭৭ সালে ২১ এপ্রিল বিচারপতি সায়েমকে অস্ত্রের মুখে পদত্যাগে বাধ্য করে নিজেই রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক হয়ে যান। এই অবৈধ অধ্যাদেশকে জোর করে বলবৎ রাখা হলেও ১৯৭৯ সালে সামরিক আইন প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গেই অধ্যাদেশটি কার্যকারিতা হারায়। ফলে সে সময় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চাইলেই ১৫ আগস্টের খুনীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিতে পারতেন। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। বঙ্গবন্ধু খুনের পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রের মাস্টারমাইন্ড জিয়া সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হিসেবে খুনীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পরিবর্তে পুরস্কৃত করেন। স্থায়ীভাবে তাদের সুরক্ষা দিতে এবং অবৈধ ক্ষমতা দখলকে কেউ যাতে চ্যালেঞ্জ করতে না পারে তা পাকাপোক্ত করতে অবৈধ অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করেন নিজ অনুগত সংসদে ১৯৭৯ সালে ৯ এপ্রিল। তখন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি নিজেই অবৈধ আইনে স্বাক্ষর করেন। ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করার মধ্য দিয়ে সংবিধান পরিপন্থী কর্মকা-কে বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ইতিহাসের অমোঘ সত্যের মুখোমুখি একদিন হতেই হবে এই চিরন্তন বাস্তবতাকে ক্ষমতালোভে অন্ধ জিয়া ভুলে গিয়েছিলেন। সেনা কর্মকর্তা হিসেবে জিয়া শপথ নিয়েছিলেন জীবনের বিনিময়ে হলেও রাষ্ট্রপতি ও সংবিধানকে রক্ষা করবেন। একইরূপে সংবিধানকে সমুন্নত রাখার শপথ নিয়েছিলেন বিচারপতি সায়েম। কিন্তু করেছেন তার বিপরীতটি। সেনাপ্রধান অর্থাৎ প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী/সার্ভেন্ট জিয়া কখনই রাষ্ট্রপতি হতে পারেন না আইনের দৃষ্টিতে। কিন্তু চাকরিরত অবস্থায়ই নিজেকে রাষ্ট্রপতি দাবি করে ‘হ্যাঁ-না’ ভোট নামক প্রহসন করেছিলেন। সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী মামলার রায়ে সুপ্রীমকোর্ট জেনারেল জিয়া, মোশতাক ও সায়েমের রাষ্ট্রপতি পদ দখলকে অবৈধভাবে জবরদখল, সম্পূর্ণরূপে বেআইনী, অবৈধ, বাতিল ও অস্তিত্বহীন মর্মে ঘোষণা করেন। এছাড়া জিয়া, মোশতাক ও সায়েমকে রাষ্ট্রদ্রোহী, সংবিধান ধ্বংসকারী হিসেবে ঘোষণা করেন। রায়ে আরও উল্লেখ করা হয় যে, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৭ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ বৈধ জনপ্রতিনিধি দ্বারা শাসিত হয়নি। ফলে এ সময় যারা ক্ষমতা দখল করেছিলেন তারা অবৈধ। সঙ্গত কারণেই তাদের কৃত সকল কর্মও ছিল অবৈধ। আদালতের এই রায় সংবিধানের বিধান অনুসারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং অমান্য তথা অস্বীকার করার কোন সুযোগ নেই।

সংবিধানের ৭ (ক) (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- ‘কোন ব্যক্তি শক্তি প্রদর্শন বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বা অন্য কোন অসাংবিধানিক পন্থায়- (ক) এ সংবিধান বা ইহার কোন অনুচ্ছেদ রদ, রহিত বা বাতিল বা স্থগিত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে, কিংবা (খ) এই সংবিধান বা ইহার কোন বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে তাহার এই কার্য হইবে রাষ্ট্রদ্রোহিতা এবং ঐ ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দোষী হইবে।

(২) কোন ব্যক্তি (১) দফায় বর্ণিত-(ক) কোন কার্য করিতে সহযোগিতা বা উস্কানি প্রদান করিলে, কিংবা (খ) কার্য অনুমোদন মার্জনা বা অনুসমর্থন করিলে তাহার এইরূপ কার্যও একই অপরাধ হইবে।

(৩) এই অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধে দোষী ব্যক্তি প্রচলিত আইনে অন্যান্য অপরাধের জন্য নির্ধারিত দন্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ দন্ডে দন্ডিত হইবে।’

সংবিধানের এ অনুচ্ছেদের আলোকে ও সংবিধান পরিপন্থী ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারির নেপথ্য কারিগর এবং এ অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করে সংবিধানের অংশে পরিণত করার জন্য স্বাক্ষর করে জিয়াউর রহমান সর্বোচ্চ দন্ডযোগ্য রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধ করেছিলেন।

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারায় বলা হয়েছে, কোন ধর্তব্য অপরাধের খবর পেলেই নিকটবর্তী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উক্ত খবর নির্ধারিত বইয়ে লিপিবদ্ধ করবেন। আইনের দৃষ্টিতে সেটাই প্রাথমিক তথ্য বিবরণী অর্থাৎ মামলা রুজু হওয়া। বঙ্গবন্ধু হত্যা বিষয়ে আইনের এই বিধান বলবৎ থাকা সত্ত্বেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। আইনত পরিবারের বা সংক্ষুব্ধ অন্য কারও আলাদাভাবে অভিযোগ দায়ের করার প্রয়োজন ছিল না।

বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ রুদ্ধ করে দিয়ে জিয়া বাংলাদেশকে আইনের শাসনবিরোধী এবং খুনীদের অভয় অরণ্যের রাষ্ট্রে পরিণত করেন। জিয়াউর রহমানের পর বিচারপতি সাত্তার, জেনারেল এরশাদ এবং খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকলেও কেউই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করেননি। প্রতিটি হত্যাকান্ডে বিচার হওয়া বাধ্যবাধকতা ও সাংবিধানিক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত জরুরী। অথচ জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পরপরই সংবিধান ও আইনের শাসন পরিপন্থী ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বিচারের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। ২১ বছরের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত আওয়ামী লীগ সরকার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে জাতির পিতার হত্যাকান্ডের বিচারের পথ উন্মুক্ত করতে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিলের উদ্যোগ নেয়। এ সংক্রান্ত আইনগত দিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব আমিন উল্লাহর নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়। তাদের রিপোর্টেই প্রকাশ পায় যে, এই কুখ্যাত আইনটি বাতিলের জন্য সংবিধান সংশোধনের কোন প্রয়োজন নেই। যেহেতু আইনের দৃষ্টিতে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ কখনই বৈধতা পায়নি। কারণ তা ছিল সম্পূর্ণরূপে অবৈধ। কমিটির এই রিপোর্ট আইন কমিশনের মতামতের জন্য পাঠানো হলে সাবেক প্রধান বিচারপতি এফ কে এম মুনীমের নেতৃত্বাধীন কমিশনও তা সমর্থন করে। অর্থাৎ যিনি ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন সাংবিধানিকভাবে তিনি বৈধ রাষ্ট্রপতি ছিলেন না। ফলে অধ্যাদেশ জারি করার কোন এখতিয়ার তার ছিল না। দ্বিতীয়ত, তিনি বৈধ রাষ্ট্রপতি হলেও এই অধ্যাদেশ জারি করতে পারেন না। কারণ, সংবিধানে ৯৩ (১) (ক) অনুচ্ছেদ অনুসারে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোন অধ্যাদেশ জারির আইনগত ক্ষমতা কখনই রাষ্ট্রপতিকে দেয়া হয়নি। সংবিধানের ৭ (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্য আইন বাতিল বলে গণ্য হবে মর্মে উল্লেখ রয়েছে। সংবিধানের ২৬ (১) (২), ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের সম্পূর্ণ পরিপন্থী ছিল এই অধ্যাদেশ। ১৯৯৬ সালের ১২ নবেম্বর ঐতিহাসিক দিনে সংসদে পাস হয় আইনের শাসনবিরোধী কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল আইন। খুলে যায় বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ। বাঙালী জাতি মুক্ত হয় ২১ বছরের কলঙ্ক থেকে। আর এটা সম্ভব হয়েছে জাতির পিতার রক্ত ও আদর্শের সুযোগ্য উত্তরসূরি শেখ হাসিনার দৃঢ়চেতা মনোবল ও সাহসী নেতৃত্বের কারণে।

ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি, উক্ত অধ্যাদেশকে জিয়ার নিজ স্বাক্ষরে ১৯৭৯ সালে আইনে পরিণত করা, নিজে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করা, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হয়ে রাষ্ট্রপতি পদ দখল করে রাজনৈতিক নেতাদের মতো ভোটের আয়োজন ও প্রার্থী হওয়া, ফৌজদারি অপরাধের বিচার করা যাবে না, এমন বিধান করে তার সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী হওয়া সবই ছিল জঘন্যতম অপরাধ ও সংবিধানের চরমতম লঙ্ঘন। ইতিহাসের গতি-প্রকৃতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, কোন অপরাধের বিচার না করে অপরাধীদের দায়মুক্ত করলে তারা আরও অপরাধ করতে উৎসাহবোধ করে। এছাড়াও অপরাধ করে কিছুই হবে না- এমন মানসিক ধারণা থেকে অপরাধপ্রবণতা বাড়তেই থাকে। বঙ্গবন্ধুর হত্যার বিচার না করায় বিচারহীনতার অপসংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল। যার ধারাবাহিকতায় জেনারেল জিয়া, খালেদ মোশারফ, কর্নেল তাহেরসহ অনেককে বিচার বহির্ভূত উপায়ে জীবন দিতে হয়েছে নির্মম হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে।
[4:51 PM, 7/9/2022] Mehedi Vai Svr: ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ: দায়ী কে?

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পরে হত্যাকারীদের  সুরক্ষার জন্য ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন স্বঘোষিত সরকার প্রধান খন্দকার মোস্তাক।  বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই এই কুখ্যাত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ সম্পর্কে জানেন না। তারা জানেন না—ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ কেন জারি হয়েছিল, কে বা কারা জারি করেছিলেন। 

একটি কথা বলে রাখা ভালো—বর্তমানে নিজেদের ‘প্রধান বিরোধী দল’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া বিএনপি ও তাদের কর্মী-সমর্থক-অনুসারীরা কোনও  সুযোগ পেলেই প্রায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলছে বলে সভা সেমিনার, টকশোসহ নানান জায়গায় বক্তব্য দেন। আমার মনে হয়,  এসব কথা বলার আগে ভেবে দেখতে হবে, এই কথাটি বলার নৈতিক অধিকার বিএনপি’র রয়েছে কিনা। বিএনপি কর্মী-সমর্থক-অনুসারীদের একটি মৌখিক সুযোগ অবশ্য আছে যে, ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা খন্দকার মোস্তাক। এখানে তাদের দোষ কোথায়?

উত্তর হচ্ছে, খন্দকার মোস্তাক যখন যেই সময়ে অঘোষিত সরকার প্রধান হিসেবে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেন, ঠিক ওই সময়ে সেনাপ্রধান ছিলেন বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাত্র ৯ দিনের মাথায় ১৯৭৫ সালের ২৪ আগস্ট সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন জিয়াউর রহমান। আর আর খন্দকার মোশতাক সরকার ছিল সম্পূর্ণভাবে সেনাসমর্থিত একটি ‘পুতুল সরকার’।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে হত্যাকারীদের বিচার ও জবাবদিহিতা থেকে রক্ষা করার জন্য সেনাসমর্থিত সরকারের প্রধান হিসেবে খন্দকার মোস্তাক ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে। জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধান থাকার সময় ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ‘অঘোষিত’ বা ‘স্বঘোষিত’ রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক  ইনডেমনিটি অধ্যাদেশটি জারি করেন। সুতরাং এর দায় এড়াতে পারেন না বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান।

সেদিন ‘দ্য বাংলাদেশ গেজেট, পাবলিশড বাই অথিউরিটি’তে লেখা অধ্যাদেশটিতে খন্দকার মোশতাকের স্বাক্ষর করেছিলেন। মোশতাকের স্বাক্ষরের পর অধ্যাদেশে তৎকালীন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এইচ রহমানের স্বাক্ষরও সংযুক্ত ছিল।

পরবর্তী সময়ে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতা নিয়ন্ত্রকারী হিসেবে আবির্ভূত হন। ওই সময় বিচারপতি আবু সা’দাত মোহাম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপতি ছিলেন। ১৯৭৬ সালের ২৯ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি সায়েম জেনারেল জিয়াউর রহমানের কাছে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল সায়েম রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান এবং জিয়া রাষ্ট্রপতি হন। ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সামরিক আইনের অধীনে দেশে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে জিয়াউর রহমানের দল নবগঠিত বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে বিজয়ী হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত ইনডেমনিটি অধ্যাদেশসহ চার বছরে সামরিক আইনের আওতায় সব অধ্যাদেশ, ঘোষণাকে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে আইনি বৈধতা দেওয়া হয়। সংশোধনী পাস হয় ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল। সংসদে উত্থাপিত আইনটির নাম ছিল ‘সংবিধান (পঞ্চম সংশোধনী) আইন, ১৯৭৯’। এই সংশোধনীর মাধ্যমে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে বৈধতা দেওয়ায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অপরাধীরা দায়মুক্তি পেয়ে যায়।

অর্থাৎ খন্দকার মোশতাকের জারি করা ইনডেমনিটি অধ্যাদেশটি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বৈধতা দেওয়া না হলে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল সামরিক আইন প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গেই ১৫ আগস্টের খুনিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেত। জিয়াউর রহমানই ব্যবস্থা নিতে পারতো। কিন্তু জিয়াউর রহমান ব্যবস্থা নেওয়া দূরে থাক, ভবিষ্যতে কেউ যেন ব্যবস্থা না নিতে পারে পাকাপাকিভাবে সে ব্যবস্থাও করে দেন। ওই সময়ে একটি প্রচার ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, যেহেতু এই ইনডেমনিটি আইন সংবিধানের অংশ হয়ে গেছে তাই এই আইন আর পরিবর্তন হবে না। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পরও বিচারপতি আবদুস সাত্তার, এরশাদ এবং ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এলেও ইনডেমনিটি অধ্যাদেশটি বাতিল বা রহিত করেননি কিংবা উদ্যোগও নেননি। 

জেনে রাখার জন্য বলা, মোস্তাক আর জিয়াউর রহমান সেই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে বা বহাল রেখেই বসে থাকেনি। সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকারী খুনিদের নানাভাবে পুরস্কৃতও করেছিল। এমনকি খুনিদের যোগ্যতা না থাকার পরও নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশের বিভিন্ন দূতাবাসে ভিন্ন ভিন্ন কূটনৈতিক পদে।

১. লে. কর্নেল শরিফুল হককে (ডালিম) চীনে প্রথম সচিব।

২. লে. কর্নেল আজিজ পাশাকে আর্জেন্টিনায় প্রথম সচিব।

৩. মেজর এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদকে আলজেরিয়ায় প্রথম সচিব।

৪. মেজর বজলুল হুদাকে পাকিস্তানে দ্বিতীয় সচিব।

৫. মেজর শাহরিয়ার রশিদকে ইন্দোনেশিয়ায় দ্বিতীয় সচিব।

৬. মেজর রাশেদ চৌধুরীকে সৌদি আরবে দ্বিতীয় সচিব।

৭. মেজর নূর চৌধুরীকে ইরানে দ্বিতীয় সচিব।

৮. মেজর শরিফুল হোসেনকে কুয়েতে দ্বিতীয় সচিব।

৯. কর্নেল কিসমত হাশেমকে আবুধাবিতে তৃতীয় সচিব।

১০. লে. খায়রুজ্জামানকে মিসরে তৃতীয় সচিব।

১১. লে. নাজমুল হোসেনকে কানাডায় তৃতীয় সচিব।

১২. লে. আবদুল মাজেদকে সেনেগালে তৃতীয় সচিব।

১৯৯৬ সালের ১২ জুন নানান চড়াই উৎরাই পার করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার আইনি বাধা অপসারণের প্রক্রিয়া হিসেবে সংবিধান বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে ‘ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ রহিতকরণ বিল’ ১৯৯৬ সালে সপ্তম সংসদে উত্থাপন করা হয়। ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর আইনটি সংসদে পাস হয়। ১৪ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পর এটি পরিপূর্ণভাবে আইনে পরিণত হয়। ফলে মোশতাকের জারি করা এবং মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের সময় বৈধতা পাওয়া ইনডেমনিটি অধ্যাদেশটি বিলুপ্ত বলে গণ্য হয়। এভাবেই ওই ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বিলুপ্ত করার পরই শুরু হয় বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার কাজ।

এই ইতিহাসটি নতুন করে বলা প্রয়োজন। কারণ, ইনডেমনিটি আইন বিলুপ্তকরণে শেখ হাসিনার সরকার ছাড়া কেউই পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে এর দায় ১৯৭৫-১৯৯৬ পর্যন্ত যারা যারা ক্ষমতায় ছিলেন তাদের সকলের। আজকের এই দিন বাংলাদেশের জন্য আরেকটি কালো দিন। কারণ এই দিনেই একটি দেশের জাতির পিতার  খুনিদের রক্ষা করার জন্য আইন জারি করা হয়।