• সোমবার   ২৮ নভেম্বর ২০২২ ||

  • অগ্রাহায়ণ ১৪ ১৪২৯

  • || ০৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সাভারে জনপ্রিয় হচ্ছে ‘কায়াকিং’

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ৫ অক্টোবর ২০২২  

সাভারে পর্যটকদের বিনোদনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে কায়াকিং। দেশ-বিদেশে কায়াকিং বেশ জনপ্রিয় হলেও রাজধানী ঘেঁষা সাভারে এটাই প্রথম। বনগাঁও ইউনিয়নের কাজীপাড়ায় তুরাগ নদীর শাখায় গড়ে উঠছে কায়াকিং পয়েন্ট। 

যেখানে প্রতিদিনই পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে আসেন বিনোদনপ্রেমীরা। ফাইবার, কাঠ ও পাটের তন্তু দিয়ে তৈরি লম্বা সরু নৌকার নাম ‘কায়াক’। আর এমন নৌকায় ভেসে বেড়ানোর রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার নামই ‘কায়াকিং’।বিদেশে বেশ জনপ্রিয় এটি। দেশের কক্সবাজার, মহামায়াসহ কয়েকটি জায়গায় আগে থেকে কায়াকিং পয়েন্ট চালু আছে। তবে রাজধানী ঘেঁষা সাভারে এটাই প্রথম। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, তুরাগ নদীর শাখার স্থির পানিতে ভেসে আছে নানা রঙের কায়াক। চারদিক থেকে গ্রামীণ প্রকৃতি যেন দৃষ্টিকে আরও সবুজ করে তুলছে। পানির বুকে লাখো কাশফুল যেন পর্যটকদের স্বাগত জানাচ্ছে। শান্ত জলের বুকে ভেসে বেড়াচ্ছেন নানা বয়সের পর্যটক।

সেখানে কথা হয় ঢাকা থেকে আসা সবুজ হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘কায়াকিং শুধু টেলিভিশনে দেখেছি। বাস্তবে এর সাধ নিতে ৬ বন্ধু মিলে চলে এসেছি। ঢাকার কাছে হওয়ায় খুব ভাল লাগলো। আমি নিশ্চিত আমাদের দেশেও এটি বেশ পরিচিতি পাবে।’

পরিবার নিয়ে এসেছেন রাকিব হাসান। তিনি বলেন, ‘শহরের যান্ত্রিকতাকে ছুটি দিয়ে জলের সঙ্গে মিতালি করতেই ছুটে এসেছি। আমার ৯ ও ১১ বছরের দুটি সন্তান রয়েছে। তাদের কায়াকের সঙ্গে পরিচয় করাতেই এখানে নিয়ে এসেছি।’

কায়াকে বসেই কথা হয় কায়াকিং পয়েন্টের উদ্যোক্তা মীর আল-আমিন ও ইলিয়াস সানির সঙ্গে। মীর আল-আমিন  বলেন, ‘পড়াশোনার পাশাপাশি একটি ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম আমি ও বন্ধু ইলিয়াস। গতবছর সেপ্টেম্বরের দিকে আমরা চট্টগ্রামের মহামায়া লেকে গিয়ে কায়াকিং দেখতে পাই। সেখান থেকে নিজের এলাকায় কীভাবে আনা যায় সে চেষ্টা করি। একপর্যায়ে কায়াকিং ফেডারেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাভারে মাত্র চারটি কায়াক বোট দিয়ে কায়াকিং শুরু করি। তবে সময় যতই যাচ্ছে বহরে নতুন নতুন কায়াক যোগ হচ্ছে। এখন আটটি কায়াক বোট রয়েছে। আরও চারটি আনার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।’

ইলিয়াস সানি জানান, ভোর ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিনামূল্যে বৃদ্ধদের কায়াকিংয়ের সুযোগ দিচ্ছেন তারা। এক একটি কায়াক বোটে কায়াকিংয়ের জন্য জনপ্রতি ১৫ মিনিটের জন্য ৫০ টাকা, ৩০ মিনিটের জন্য ৮০ টাকা, ৬০ মিনিটের জন্য ১৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত সময় চাইলে দেওয়া হয় লাইফ জ্যাকেট। তিনি বলেন, যে প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়েছে তার চেয়ে বেশি সাড়া পেয়েছি। পর্যটকরা দূর-দূরান্ত থেকে গ্রুপ নিয়ে ছুটে আসছেন।

রাজধানীর গাবতলী থেকে সাভারমুখী যে কোনো বাসে উঠে নামতে হবে বলিয়ারপুর বাসস্ট্যান্ডে। বলিয়ারপুর থেকে ইউসুফ নগরে যেতে রিকশায় ভাড়া নেবে ৪০-৬০ টাকা। আর ইজিবাইকে ভাড়া নেবে জনপ্রতি ২০ টাকা। অথবা মিরপুর থেকে বিরুলিয়ার গোলাপ গ্রাম হয়ে খুব দ্রুত সময়ের ভেতরে চলে আসা যাবে কায়াকিং পয়েন্টে। অন্যদিকে সাভার বা নবীনগর থেকে গাবতলীমুখী যে কোনো বাসে এসেও বলিয়ারপুর নামা যাবে। ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়েও যাওয়া যাবে কায়াকিং পয়েন্টে।