• বুধবার   ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ ||

  • মাঘ ১৯ ১৪২৯

  • || ১০ রজব ১৪৪৪

টানা ২৬ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন অ্যাম্বুল্যান্সচালক

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারি ২০২৩  

পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে অ্যাম্বুল্যান্স ও ট্রাকের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুল্যান্সে থাকা মা-মেয়ে, চালকসহ ছয়জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাকবলিত অ্যাম্বুল্যান্সটি চালাচ্ছিলেন চালক রবিউল ইসলাম (২৮)। তার বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ প্রাথমিকভাবে বলছে, তিনি টানা ২৬ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। 

শিবচর হাইওয়ে থানা পুলিশ ও জাজিরা ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, অ্যাম্বুল্যান্সের চালক রবিউল খুলনার দিঘলিয়ার চন্দনিমহল এলাকার কাওসার হাওলাদারের ছেলে। তিনি রবিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ঢাকা থেকে রোগী নিয়ে ভোলায় যান। ভোলা থেকে ঢাকায় ফেরার পথে বরিশাল শহরের বেলভিউ হাসপাতাল থেকে আরেক রোগী নিয়ে গতকাল সোমবার রাতে ঢাকায় রওনা দেন। দীর্ঘ ২৬ ঘণ্টা গাড়ি চালানোর কারণে তার শরীর ক্লান্ত ছিল। গাড়ি চালানোর সময় তিনি হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়েন। একপর্যায়ে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে কুয়াশার মধ্যে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে নাওডোবা এলাকায় চলন্ত অবস্থায় ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দিলে অ্যাম্বুল্যান্সটি দুমড়েমুচড়ে যায়। 

ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুল্যান্সে থাকা ক্যান্সার রোগী জাহানারা বেগম (৫৫), তার মেয়ে লুৎফুন নাহার লিমা (৩০), স্বাস্থ্যকর্মী ফজলে রাব্বি (২৮), গাড়িচালক রবিউল ইসলাম (২৯), হেলপার জিলানী (২৮) ও মাসুদ রানা (৩০) নিহত হন। মাসুদ রানা দৈনিক নবচেতনা পত্রিকার বরিশাল ব্যুরো প্রধান। মৃত জাহানারা ও লিমার বাড়ি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কারখানা গ্রামে। জাহানারার স্বামী লতিফ মল্লিক আমেরিকাপ্রবাসী। ফজলে রাব্বির বাড়ি একই জেলার দশমিনা উপজেলার আদমপুর গ্রামে। সাংবাদিক মাসুদ রানার বাড়ি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাসাইল গ্রামে। আর রবিউলের সহকারী জিলানীর বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার মস্তফাপুর গ্রামে। পরে নিহতদের জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। 

জাজিরা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার এনামুল হক সুমন বলেন, পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে ভয়াবহ দুর্ঘটনা হয়েছে। এমন খবরে সেখানে উপস্থিত হয়ে দেখি ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুল্যান্সে থাকা ছয়জন নিহত হয়েছেন। পরে সেখান থেকে অ্যাম্বুল্যান্স ও ট্রাকটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাই। আর লাশগুলো জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসি।

শিবচর হাইওয়ে থানার ওসি আবু নাঈম মোহাম্মদ মোফাজ্জেল হক বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, চালক রবিউল টানা গাড়ি চালানো ও শরীর ক্লান্ত হয়ে যাওয়াতেই এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও দক্ষিণ থানা পুলিশকে নিয়ে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দিই। দুর্ঘটনাকবলিত অ্যাম্বুল্যান্স ও ট্রাক আমাদের হেফাজতে রয়েছে। চালক রবিউলের মরদেহ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকিদের মরদেহ নেওয়ার জন্য স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে। তাদেরও বুঝিয়ে দেওয়া হবে। আর এ বিষয়ে এখনো কোনো মামলা হয়নি।