• মঙ্গলবার   ২৪ মে ২০২২ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ৯ ১৪২৯

  • || ২২ শাওয়াল ১৪৪৩

একটি আসন ছাড়ছেন এরশাদ!

মানিকগঞ্জ বার্তা

প্রকাশিত: ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮  

জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশে ফিরেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সিঙ্গাপুর থেকে চিকিৎসা শেষে বুধবার রাত ৯টায় দেশে ফিরেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি। বিমান বন্দর থেকে তিনি সোজা চলে যান বারিধারাস্থ প্রেসিডেন্ট পার্কের বাসভবনে। বর্তমানে এরশাদ বাসায় পূর্ণ বিশ্রামে রয়েছেন।

এরশাদের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার জালালী জানান, মেডিকেল চেকআপ শেষে জাপা চেয়ারম্যান রাত ৯ টায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে হজরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে অবতরণ করেন। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু ও তার পিএ মঞ্জুরুল ইসলাম।

সিঙ্গাপুর থেকে বিমান বন্দরে পৌঁছার পর পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান- চেয়ারম্যানের বিশেষ সহকারি এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর জাতীয় পার্টির সভাপতি এস.এম. ফয়সল চিশতী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সেন্টু, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা রেজাউল ইসলাম ভূঁঞা, ভাইস চেয়ারম্যান এম.এ. তালহা, বাহাউদ্দিন আহম্মদ বাবুল, নুরুল ইসলাম নুরু, যুগ্ম মহাসচিব- শফিকুল ইসলাম শফিক, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মো: আবুল খায়ের, মো. মিল্টন মোল্লা, মাখন সরকার, যুগ্ম দফতর এমএ রাজ্জাক খান, কেন্দ্রীয় সদস্য মো: আলমগীর কবীর, মিজানুর রহমান দুলাল, মাহাবুবুর রহমান লিপ্টন, এম রফিকুল আলম সেলিম, ছাত্রসমাজের সাবেক সভাপতি শামীম আহমেদ রিজভী, ছাত্রসমাজের সভাপতি মোড়ল জিয়া প্রমুখ।

৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা গ্রহণ নিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদকে নিয়ে নাটকীয়তা চলে। ঢাকা-১৭ ও রংপুরের একটি আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিলেও সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকায় একদিনের জন্যও নির্বাচনী প্রচারে নামতে পারেননি মহাজোটের শীর্ষনেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। সিঙ্গাপুরে থাকাবস্থায় ঢাকা-১৭ আসন থেকে নৌকার সমর্থনে এরশাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের গুঞ্জন উঠে। যদিও তার দলের নেতারা বিষয়টি গুজব বলে উড়িয়ে দেন।

মহাজোটের পাশাপাশি জাপা নেতারা এরশাদের পক্ষে উক্ত আসনে ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। সাবেক রাষ্ট্রপতিও নাকি চান না ঢাকা ১৭ আসন ছাড়তে। এ অবস্থায় ৩০ ডিসেম্বরের আগে সিঙ্গাপুর থেকে এরশাদের দেশে ফেরা নিয়ে নানা রকম কথাবার্তা চাওর হয়। কয়দিন আগে একবার দেশে ফেরার কথা বলেও তিনি আসেননি। এরপরপরই সাবেক রাষ্ট্রপতির সিঙ্গাপুরে অবস্থান ও দেশে ফেরা নিয়ে নাটকীয়তা চলে। এরমধ্যদিয়ে সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে দেশে ফিরেন এরশাদ।

জানা গেছে, আগের চাইতে সুস্থ হয়ে উঠেছেন সাবেক রাষ্ট্রপতি। তবে তাকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে বলা হয়েছে। সভা সমাবেশে কিংবা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে বারণ করা হয়েছে। এরশাদ দেশে ফিরলেও এ অবস্থায় ঢাকা-১৭ কিংবা রংপুরে গণসংযোগ চালাতে পারবেন কিনা অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ফলে, তিনি রংপুরের আসনটি রেখে যে কোন মুহূর্তে ঢাকা-১৭ আসন ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিতে পারেন। এমনটাই জানিয়েছেন দলটির শীর্ষনেতারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের প্রভাবশালী প্রেসিডিয়াম সদস্য জানান, স্যারের শরিরের যে অবস্থা তাতে মনে হয় না তিনি নির্বাচনী মাঠে নামতে পারবেন। তাছাড়া এই আসনে মহাজোটের একজন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। মহাজোটের শরিক হিসেবে এবং শারিরিক অবস্থা বিবেচনা করে হয়তো স্যার এই আসনটি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিতে পারেন।